তেহরান: অনিচ্ছাকৃত ভুল, আর তাতেই ১৭৬ জনের মৃত্যু। ভুল করেই ইউক্রেনের বিমানে মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে বলে জানাল ইরান। শনিবার তেহরানের তরফে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

মিসাইল ছুড়ে ইউক্রেনের বিমান ধ্বংস করার অভিযোগ উড়িয়েছিল তেহরান। তবে, শনিবার সেই দাবি থেকে সরে এসে দোষ কবুল করল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবেই’ ইরানী সেনার আক্রমণে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি ধ্বংস হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ‘ভুলবশত’ বলে দাবি করেছে ইরান।

গত বুধবার ইরানের ইমাম খোমেইনি বিমানবন্দর থেকে টেক-অফ করার পরই ইউক্রেন আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থার বোয়িং ৭৩৭ ভেঙে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা বলে জানানো হয়। এতে নিহত হন ১৭৬ জন।

দু’দিন পরে আমেরিকা একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, মিসাইলেই ধ্বংস হয়েছে ওই বিমান।

‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ সেই ভিডিও প্রকাশ করেছে। ১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কোন একটা বস্তুর আঘাতে বিমানটিতে আগুন ধরে যেতে দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড শব্দে এটি বিষ্ফোরিত হয়।

দাবি, তেহরান বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরই এতে কিছু একটা আঘাত হানে। এতে বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। ওই অবস্থায় পাইলট বিমানটিকে আবার তেহরানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই এটি বিষ্ফোরিত হয়ে সব যাত্রী ও ক্রু নিহত হন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে তারা ওই ভিডিওটি মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সার টেকনোলজিস থেকে সংগ্রহ করেছে।

বুধবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরই ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এদের মধ্যে ১৬৭ জন যাত্রী এবং ৯ জন ক্রু ছিলেন। ইরানের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এরপরই এই ঘটনার কথা স্বীকার করল ইরান।

বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেছিলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির ব্যাখ্যা কোনও মতেই ধোপে টেঁকে না। ভুল করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ মিসাইল হামলার দিকেই ছিল তাঁর ইঙ্গিত।

যদিও, ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দেয় তেহরান। শনিবার অবশ্য ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনার জন্য সেনার ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছে তেহরান। তবে তাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ও ‘ভুলবশত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।