তেহরান: আকাশ সীমা লঙ্ঘন করার পরেই মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ধংস করা হয়েছে৷ সেটা চিহ্নিত করা হয়েছে৷ কেনও মার্কিন সেনার এই ড্রোন বিখ্যাত চাবাহার বন্দর ও হরমুজ প্রণালীতে ঢুকেছিল তার জবাব চেয়েছে ইরান সরকার৷ সেই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে প্রতিবাদপত্র পেশ করা হয়েছে৷ এমনই সংবাদ দিচ্ছে বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা৷

সেই চিঠিতে ইরানের আরও দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই এভাবে আকাশ সীমা লঙ্ঘন করেছে৷ ফলে তার জবাবও দেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ড্রোনটিকে ধংস করে বড় ভুল করেছে ইরান সরকার৷ তাঁর মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহল আলোড়িত হয়৷

ইরানি সংবাদ মাধ্যম ‘ইরনা’ জানাচ্ছে, ধংস হয়ে যাওয়া সেই মার্কিন ড্রোনটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেই তথ্য দিয়েই রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরাসের কাছে ওয়াশিংটনের কড়া নিন্দা করে চিঠি দেওয়া হয়েছে৷ রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি বৃহস্পতিবার রাতে এই চিঠি হস্তান্তর করেন৷

এই চিঠিতে মার্কিন ড্রোনটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২০ জুন স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১২টা ১৪ মিনিটে একটি মার্কিন ড্রোন পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ থেকে উড়তে শুরু করে৷ হরমুজ প্রণালী পার করে চাবাহার বন্দরের দিকে সেটি যাচ্ছিল৷ এই যাত্রা পথে আকাশ থেকেই ড্রোনের মাধ্যমে গোপনে ছবি তোলা হয়েছে৷ এটি গুপ্তচরবৃত্তি৷ ড্রোনটি ফেরার পথে ইরানের তরফে আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়৷ বারে বারে সেই ড্রোনটি সম্পর্কে সতর্কতা দেওয়া হয়৷ কোনও কাজ না হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের নিয়ম মেনেই নিজেদের আকাশ সীমা সুরক্ষিত করতে ড্রোনটিকে ধংস করা হয়৷

এর আগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বচ্চো ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই জানিয়েছিলেন, কোনও অবস্থাতেই নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তৎপর থাকবে দেশের সেনাবাহিনী৷ পরে ইরানি সেনার মুখপাত্র বলেন, পারস্য উপসাগরে একটিও গুলি চালালে বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যে বিপুল সংকট তৈরি হবে৷ তার দায় নিতে হবে ওয়াশিংটনকেই৷ এই সংকট তৈরি হলে ওয়াশিংটনের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির পক্ষেও চরম ক্ষতি৷ কারণ তাদের বেশিরভাগই ইরানের রফতানি করা তেলের উপর নির্ভর করে৷