প্রতীকি ছবি

তেহরান: হিজাবকে অপমান করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক তরুণীকে। সাইকেল চালানোর সময় হিজাব পরতে দেখা যায়নি তাকে। আর তারপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রশাসনের তরফে এই গ্রেফতারির কথা জানানো হয়েছে।

ইরানের নাফাজাবাদের গভর্নর মোজাতাবা রাই জানিয়েছেন, এক তরুণী যিনি ইসলাম ধর্মকে অপমান করেছেন ও নিয়মভঙ্গ করেছেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই তরুণি হিজাব না পরে মসজিদের সামনে দিয়ে সাইকেলে চেপে যাচ্ছেন, মোবাইলে তোলা এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই কঅড়া পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নাফাজাবাদ জুড়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৯৭৯ থেকে ইরানে ইসলামিক রুল অনুযায়ী, প্রত্যেক মহিলাকে হিজাবে মাথা ঢাকতে হয়। কিন্তু অনেক সময়ই মহিলারা সেই নিয়ম মানতে চান না ও হিজাব সরিয়ে ফেলেন। বিশেষত তেহরানের মত বড় শহরে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়।

কেন ওই মহিলা হিজাব খুলে ঘুরলেন, তা জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে।

এমন ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ৪২ বছর বয়সী ইরানী নারী শাপারককে হিজাব না পরতে চেয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে ২ বছরের সশ্রমসহ মোট ২০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়। শাস্তির ভয়ে তার আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ওই মহিলা।

ইরানের ইসলামিক পেনাল কোডের প্রাদেশিক অনুচ্ছেদ ৬৩৮ অনুযায়ী, ‘মহিলারা যদি জনসম্মুখে বা রাস্তায় হিজাব পরিধান না করে তবে তার শাস্তি হিসেবে তাকে দুই দিন থেকে দশ মাস পর্যন্ত কারাভোগ অথবা ৫০ হাজার বা ৫ লাখ রিয়াল জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।’ এই নিয়মের বিরোধিতা করায় শাপারক সাজারিজাদেহকে ২০ বছরের সাজা দেওয়া হয়।

এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসিকিউটরদের মতে, জনসম্মুখে হিজাব না পরে তারা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিচ্ছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি নারীকে জনসম্মুখে হিজাব খুলে প্রতিবাদ করার জন্য গ্রেফতার করা হয়। এটি করা হয় শুধু দেশটির বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের বিরোধিতা করার জন্য।

উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালে, দেশটির শাসক রেজা শাহ পাহলভি পশ্চিমা পোশাক বাধ্যতামূলক করেন। ১৯৭০ এর দশকে দেশটির মানুষ সহিংস বিপ্লব অনুসরণ করে শাসক পরিবারকে উৎখাত করতে। সে সময়ই নারীদের মাথায় কাপড় পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৯৭৯ সালে ইরান রাষ্ট্রের প্রধান আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই আইন জারি করেন। সে সময়, এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন পেশার দশ হাজারেরও বেশি নারী রোডমার্চ করে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।