ওয়াশিংটন-তেহরানঃ  আবারও গরম পারস্য উপসাগরের জল৷ আবারও ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক গরম বক্তব্যের লড়াই শুরু৷ সীমান্তের কাছে ইরানি সেনা মার্কিন ড্রোন ধংস করার পর এবার কড়া জবাব দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তিনি বলেছেন, ‘বড় ভুল’ করেছে তেহরান৷ স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল আলোড়ন৷ কিন্তু কতটা শক্তিশালী এই চালকবিহীন ড্রোন?

মার্কিন আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এবং শক্তিশালী ড্রোন। চালকহীন এই বিমান দিনে ৪০ হাজার বর্গ মাইল বা এক লক্ষ বর্গ কিলোমিটার ভূখণ্ডের ওপর গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে পারে। অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়া বা আয়ারল্যান্ডের মতো দেশের ওপর পুরোপুরি গোয়েন্দা তৎপরতা একটি মাত্র দিনেই সম্পন্ন করতে পারবে খুব সহজেই। কার্যকারিতা এমনই যে এই পরিমাণ ভুখন্ড পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশকে রাডারে ধরতে সক্ষম। ক্রমাগত ড্রোন প্রযুক্তিতে উন্নতি ঘটছে। বিভিন্ন দেশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বিভিন্ন কাজে। বিশেষ করে ভারতীয় সেনা অন্তত স্পর্শকাতর পাক সীমান্তে নজরদারির জন্যে উন্নতমানের ড্রোন ব্যবহার করে। তেমনই করে পাকিস্তান। এছাড়াও অন্যান্য দেশও তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির সীমান্তে এই বিজ্ঞান কাজ লাগাচ্ছে।

টানা ত্রিশ ঘণ্টার বেশি আকাশে থাকার সক্ষমতা রয়েছে আরকিউ-৪ গ্লোবাল হকের। যে কোনও ধরণের আবহাওয়ায় এটি তৎপরতা চালাতে পারে বলে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে এহেন বিমান নির্মাতা সংস্থা নর্থরোপ গ্রুমম্যানের ওয়েবসাইটে। লকহিডের তৈরি ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান দিয়ে যে সব তৎপরতা চালানো যায় তার সবই আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক দিয়ে চালানো সম্ভব। চালকহীন এই গোয়েন্দা বিমান মূলত পরিচালনা করে মার্কিন বিমান বাহিনী বা ইউএসএএফ।

২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এটি পরিচালনার ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ২০১০ সালে এটি প্রতিঘণ্টায় ওড়ার ক্ষেত্রে ১৮৯০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হত। কিন্তু ২০১৩ সালে তা ঘণ্টা প্রতি ১১ হাজার ডলারে নেমে আসে। আর এই চালকহীন বিমান ১৩৬০ কেজি ওজন বহন করতে পারে। একে পেলোড হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে ইরানের হাতে ধ্বংস হওয়া ড্রোনটি আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক নয়। বরং এমকিউ-৪সি ট্রাইটন। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত এমকিউ-৪সি ট্রাইটন চালকহীন ড্রোনটি তৈরি হয়েছে আরকিউ-৪এর ওপর ভিত্তি করে। সক্ষমতার দিক থেকে এটি আরকিউ-৪’এর’ই অনুরূপ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইরানি সীমান্ত লঙ্ঘন করে একটি মার্কিন ড্রোন ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ তেহরানের৷ সেই ড্রোনটি ধংস করে ইরানি সেনা৷ সেই খবর তেহরান থেকে সম্প্রচারিত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম৷ এপি, আল জাজিরা, বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সরকারে এই ড্রোন পাঠানোর ঘটনাকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে৷ ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানাচ্ছে- দেশের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল প্রদেশ হরমুজগানের কুহে মোবারক এলাকায় অনুপ্রবেশকারী একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে।