তেহরানঃ ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় কিছু অঘটন ঘটে যেতে পারে দুদেশের মধ্যে। এই উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের সাইবার পরিকাঠামোতে ভয়াবহ সাইবার হামলা। যদিও সেই ভয়াবহ সাইবার হামলা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী হামিদ ফাত্তাহি।

তিনি আজ রবিবার তেহরানে স্থানীয় সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী হামিদ ফাত্তাহি। তিনি বলেন, ভাড়াটে হ্যাকাররা ইরানের সাইবার কার্যক্রমের ইতিহাসে আজ সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লাখ লাখ উৎস থেকে ইরানের লাখ লাখ সাইবার কেন্দ্রকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলা সফল হলে ইরানের ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারত। কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে সে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফাত্তাহি।

এর আগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ অযারি জাহরোমি সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তার দেশ তিন কোটি ৩০ লাখ সাইবার হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এদিনের এই সাইবার হামলা সবথেকে ছিল ভয়াবহ বলে দাবি ইরানের মন্ত্রীর।

তবে সাফল্যের সঙ্গে তা রুখে দিয়ে ইরানের বিজ্ঞানীরা নয়া পথ খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হামিদ ফাত্তাহি। তবে ভয়াবহ এই সাইবার হামলার চালানোর পিছনে আমেরিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু এখনই বলতে পারা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপমন্ত্রী।

বর্তমান যুগে প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা শত্রু দেশকে ঘায়েল করার জন্য সাইবার হামলা একটি বড় ধরনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যা এরইমধ্যে ভার্চুয়াল যুদ্ধ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে অচল বা অকার্যকর করে দেওয়া যায় খুব সহজেই। আর আজকের দিনে কোনও দেশের টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া সক্ষম হলেই সে দেশের কোমড় ভেঙে দেওয়া খুব সহজ হয় বলে মনে করেন সামরিক কারবারীরা।