তেহরানঃ  ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। যেভাবে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ছে তাতে ইতিমধ্যে বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এই অবস্থায় যখন আতঙ্কে গোটা দেশ তখন ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে সাইবার হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, তেহরানের মিসাইল-রকেটে এই সাইবার হামলা চালায় আমেরিকা৷

আরও জানানো হয় যে এই সাইবার হামলায় ইরানে রকেট এবং মিসাইল উৎক্ষেপণ যে সিস্টেমের মাধ্যমে হত বা এই লঞ্চার গুলি যে কম্পিউটার সিস্টেমে নিয়ন্ত্রিত হত তা হ্যাক করে নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামিদিনে যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার বিরুদ্ধে যে কোনও ধরণের সামরিক পদক্ষেপ করতে গেলে ইরানকে যথেষ্ট চাপে পড়তে হবে বলে দাবি করা হয়।

আমেরিকার এহেন পদক্ষেপের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পালটা হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। একই সঙ্গে ইরানের তরফে জানানো হয়েছে যে, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় আমেরিকার চালানো সাইবার হামলা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন এই হামলায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনও বিঘ্ন ঘটে নি বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের যোগাযোগ ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ আজারি জাহরোমি আজ সোমবার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে বলেছেন, সংবাদমাধ্যম জিজ্ঞেস করছে সাইবার হামলা হয়েছে কিনা। আমেরিকা কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবে তারা এখনও পর্যন্ত কোনও সফল হামলা চালাতে পারে নি। আগামিদিনেও কোনও ধরনের হামলা চালাতে আমেরিকা পারবে না বলেও দাবি করেছেন জাহরোমি।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরানের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন কম্পিউটার ব্যবস্থার ওপর আমেরিকা হামলা চালিয়েছে। ইরানের হরমুজগান প্রদেশের আকাশ থেকে আমেরিকার একটি আরকিউ-৪এ গ্লোবাল হক ড্রোন ধ্বংস করার পরপরই আমেরিকা সাইবার হামলার কথা ঘোষণা করে। তথ্য সংগ্রহের সময় ইরান তার নিজস্ব প্রযু্ক্তিক্তে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র খোরদাদ-৩ দিয়ে এই ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

জাহরোমি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরান মার্কিন সাইবার হামলা শিকার। এর মধ্যে শুধু গতবছরই আমেরিকা তিন কোটি ৩০ লাখ দফা হামলা চালায় তবে তা ব্যর্থ করে দিয়েছে ইরানি বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, পারস্য উপসাগরে ইরানি সীমান্তের ভিতর চলে আসা একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে ধংস করে ইরানি রক্ষীরা৷ তারপর থেকেই তেহরানের লাগাতার হুমকি ও রাষ্ট্রসংঘে চরম পত্র পাঠানোর জেরে আরও উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক মহল৷ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সরকারের দাবি, একটা গুলি যদি ছোঁড়া হয়, তাহলে বিশ্ব তেলের বাজারে প্রবল অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে৷ তার প্রবল ধাক্কা লাগবে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির অর্থনীতিতে৷

এদিকে, এই হুঁশিয়ারির পরেই পালটা জবাব ছোঁড়েন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র। আবুল ফজল শেকারচি বলেন, ইরানের দিকে একটি গুলি ছোঁড়া হলে এর আগুনে জ্বলে-পুড়ে ধ্বংস হবে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো। তিনি আরও বলেন, ইরানের দিকে গুলি ছোড়ার অর্থ হবে গোলা-বারুদের গুদামে আগুন দেওয়া। শুধু তাই নয়, ওই আগুনে তারাই ধ্বংস হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।