তেহরান: সাত সকালেই মার্কিন এয়ারস্ট্রাইক। আর তারপর থেকেই তোলপাড় গোটা বিশ্বের রাজনীতি থেকে অর্থনীতি। বাড়ছে তেলের দাম, পড়ছে টাকার দাম, কেউ কেউ বলছেন যুদ্ধের ইঙ্গিত। কারণ এই এয়ারস্ট্রাইকে মৃত্যু হয়েছে কাশিম সোলেমানির। মধ্যপ্রাচ্যে সব কূটনীতির খেল নাকি খেলতেন ইনিই, বলে দাবি একাধিক সংবাদমাধ্যমের। আদতে তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর অন্যতম শীর্ষ সেনা অফিসার।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছের লোক ছিলেন এই সোলেমানি। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে, খাতা-কলমের পিছনে তিনিই ছিলেন ইরানের সর্বেসর্বা, বলেও দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের। তাঁর মৃত্যু বড় ক্ষতি হিসাবেই দেখছে তেহরান।

এদিনের এই ঘটনায় অনেকেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন। বিশেষ করে সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন এই উস্কানির প্রতিশোধ নেবে ইরান। আর এর ফলে ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন।

তবে আশঙ্কার কথা আরও যে গত কয়েকদিন আগেই গভীর সাগরে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ইরানকে যুদ্ধের কৌশল শিখিয়েছে রাশিয়া এবং চিন। গত বছরের শেষদিকে ভারত মহাসাগর এবং ওমান সাগরে বিশাল সামরিক মহড়া করে ইরান। ছিল রাশিয়া এবং চিন। বিশাল এই সামরিক মহড়াতে একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার পাঠায় চিন। চিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র উ কিয়ান রাজধানী বেজিংয়ে মাসিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডেস্ট্রয়ার পাঠানোর কথা ঘোষণা করেন। বিশাল এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেরিন সিকিউরিটি বেল্ট’।

যদিও চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, যৌথ এই মহড়ার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে- তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করা। তিনি বলেন, তিন দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা ঠেকানোর জন্য শুধু এও মহড়া অনুষ্ঠিত হবে না বরং তিন দেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রদর্শন করাও হবে মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফাজল শেকারচি বলেছেন, আসন্ন মহড়ার অর্থ হচ্ছে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা সমুন্নত রাখা। রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে ইরানের সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়কে এই মহড়া আয়োজনের আরেকটি লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন জেনারেল শেকারচি।

একদিকে যখন গত কয়েকদিন আগে কার্যত যুদ্ধের তালিম নিল তেহরান, আর ঠিক সেই মহড়ার কয়েকদিন বাদেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় কার্যত দিন গুণছে গোটা বিশ্বের মানুষ।