তেহরানঃ  ফের গরম আরব দুনিয়া। এবার ইরানি তেলবাহী জাহাজে মিসাইল হামালার অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক তেল আমদানিকারক সংস্থায় লাগছে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। আশঙ্কা মিসাইল হামলার অভিযোগে বিখ্যাত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার পথই নেবে ইরান। সেই ধাক্কা লাগবে বিশ্বে তেল রফতানিতে। হু হু করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তেহরান।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেভাবে তার দেশের তেল ট্যাংকারের উপর যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে তা বিনা জবাবে পার পাবে না। তিনি একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলকে অনিরাপদ করার জন্য যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে তারও জবাব দেওয়া হবে। তবে জবাব বলতে কি করা হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু পরিস্কারভাবে বলা হয়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির ট্যাংকার সাবিতি সৌদি আরবের জেদ্দা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে লোহিত সাগরে সন্দেহভাজন হামলার শিকার হয়। ইরান বলছে, জাহাজটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আলী শামখানি জানান, তেল ট্যাংকার সাবিতির ওপর হামলার ব্যাপারে তদন্ত করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। এরপর সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব।

অন্যদিকে, তদন্ত প্রসঙ্গেই আলী শামখানি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, হামলার ব্যাপারে যে ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গিয়েছে তা পরীক্ষা করে বিপজ্জনক এই অভিযানের কিছু ক্লু পাওয়া গিয়েছে। তবে সবটাই এখন তদন্ত সাপক্ষ। এর বাইরে আর কিছু সামনে আনা হবে না বলেই জানিয়েছেন শামখানি সাহেব। তবে এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, তৈরি হয়েছে এক চাপা আতঙ্কও।