কলকাতা: রাজ্যে আইপিএস, আইএএসদের ‘চাকর-বাকর’দের সঙ্গে তুলনা করলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। এর মধ্যেই গত সাত দিন ধরে ৩৫ জন পার্শ্বশিক্ষক আমরণ অনশনেও বসেছেন। অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিন জন পার্শ্বশিক্ষক।

রাজ্য সরকারের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার এই অনশন মঞ্চে এসে হাজির হন অনুপমবাবু। মঞ্চে উঠেই রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দুরাবস্থার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার কথা আর নাই বা বললাম। এখন তো আইপিএস আইএএসরা চাকর বাকর হয়ে গিয়েছেন। পার্টির কাজ করতে করতে জনগণের কাজটাই ভুলতে বসেছেন।’

এরপরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা বলেন, ‘রাজ্য সরকারের এ হেন লাঞ্ছনা,বঞ্চনা সারা ভারত দেখছে। অধ্যাপকদের এখন অনশনে বসতে হচ্ছে এর থেকে লজ্জার কিছু হয় না।’

গতকাল অর্থাৎ বুধবার এই অনশন মঞ্চ থেকে ফিরে মারা গিয়েছেন রেবতী রাউল। আর বৃহস্পতিবার মঞ্চে উঠে এই নিয়েই প্রবলভাবে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন অনুপম। তিনি বলেন, ‘অনশন মঞ্চ থেকে ফিরে গতকাল মারা গিয়েছেন এক শিক্ষিকা। এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রীর। এই মৃত্যুর দায় তাঁকে নিতেই হবে। আরও দুইজন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কিছু হলে সেটার দায় নেবেন তো শিক্ষামন্ত্রী। এই লজ্জা লুকোবার কোনও জায়গা নেই। আমি ধিক্কার জানাই এই সরকারকে।’

এরপরেই মমতাকে নিশানা করেন অনুপম। তিনি বলেন, ‘মমতা নামে দয়া মায়া আছে। কিন্তু, আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কোনও দয়া মায়া বলে কিচ্ছু নেই। যেন তেন প্রকারেণ তিনি বিরোধী কোনও মত দমন করতে চান।’

এরপরেই কোর্টের আদেশ আছে বলে পার্শ্বশিক্ষকরা আন্দোলন করতে পারছেন নয়ত তাঁদের উপরেও আক্রমণ নেমে আসত বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ এখানে কোর্টের আদেশ আছে বলেই আপনারা আন্দোলন করতে পারছেন নয়ত আপনাদের হয়ত পিটিয়ে মেরে ফেলত।’

বেতনবৈষম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই বিজেপি নেতা বলেন, ‘বাইরের রাজ্যে আমার চেনাশোনা অধ্যাপক বন্ধু বান্ধবদের বেতন যেখানে কম করে ত্রিশ হাজার টাকা সেখানে এই রাজ্যে একই পদে থেকেও অধ্যাপকদের মাইনে দেওয়া হচ্ছে তেরো কিংবা পনের হাজার টাকা। এরথেকে একজন টোটোওয়ালাও বেশি টাকা কামায়।’

অনশনে উপস্থিত পার্শ্ব শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দাবি নিয়ে ইংরাজিতে লিখে একটি চিঠি আমাকে দিন। আমি সেই কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিবের কাছে পৌঁছে দেব।’

বেতন বৈষম্য,কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা-সহ একাধিক দাবি নিয়ে সাত দিন ধরে অনশনে রয়েছেন পার্শ্ব শিক্ষকেরা। অনশন সাত দিনে গড়ালেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।