নয়াদিল্লি: মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা ত্রয়োদশ আইপিএলের। কিন্তু বালাই ‘প্যানডেমিক করোনা’। আর সেই আতঙ্কে আইপিএলের টিকিট বিক্রি বন্ধ করল মহারাষ্ট্র সরকার। তাদের দাবি বন্ধ রাখা হোক এবারের আইপিএল। একই সুরে সুর মিলিয়ে আইপিএল আয়োজনে নিষেধ করেছে বিদেশমন্ত্রকও। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ভারটা আয়োজকদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে তারা।

দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। তাই ফাঁকা গ্যালারিতে হলেও আইপিএল নিদেনপক্ষে অনুষ্ঠিত হোক। বুধবারই নিজেদের দাবি জানিয়েছিল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। আর এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই শনিবার মুম্বইয়ে বিসিসিআইয়ের হেডকোয়ার্টারে বসছে আইপিএল গভর্নিং বডির মিটিং। ২০২০ আইপিএলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে সেদিনই।

যা অবস্থা তাতে করে নির্দিষ্ট সময়ে আইপিএল শুরু হলে তা ফাঁকা গ্যালারিতেই আয়োজন করতে হবে, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্টে দর্শক সমাগমে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এই মর্মে চিঠি পৌঁছে গিয়েছে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসসিয়েশন, বিসিসিআই, এআইএফএফ সহ দেশের বিভিন্ন স্পোর্টস গভর্নিং বডির কাছে। আর কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের নির্দেশ পেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো জানাচ্ছে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে আইপিএল আয়োজন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা যেহেতু খোলা নেই তাই ফাঁকা গ্যালারিতেই অনুষ্ঠিত হোক ম্যাচ।

চেন্নাই সুপার কিংস সিইও কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ‘আইপিএল না হওয়ার চেয়ে ফাঁকা গ্যালারিতে হওয়া অনেক ভালো। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকের পর স্পষ্ট হবে বিষয়টি।’ এই ইস্যুতে বিসিসিআই সেভাবে কিছু না বললেও আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল আশাবাদী শনিবারের বৈঠক নিয়ে। তাঁর কথায়, ‘আমরা সমস্ত সম্ভাবনার দিকটি খোলা রাখব। বৈঠকে সেরা সিদ্ধান্তটাই বেরিয়ে আসবে।’

তবে দর্শকশূন্য গ্যালারিতে খেলা হলে কি আইপিএলের উন্মাদনা বজায় থাকবে? এছাড়াও টিকিট বিক্রি থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর যা রেভিনিউ হয় বোর্ড কি সেই ক্ষতিপূরণ দেবে? থাকছে প্রশ্ন। প্রত্যেক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত থাকে একাধিক স্পনসর। দর্শকঠাসা গ্যালারি ক্রিকেটারদের যেমন মোটিভেট করে তেমনই সুবিধা পায় স্পনসররাও। স্পনসরদের তরফে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। ক্লোজ-ডোর হলে যার কোনওটিই সম্ভব নয়।

তাই ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলা হলে স্পনসরদের আগ্রহ কমতে বাধ্য। যদি ক্রিকেটপ্রেমীদের জমায়েতই না করা যায়, তা হলে আইপিএল ঘিরে স্পনসরদের যে সকল অনুষ্ঠান থাকে সেগুলোর আর কোনও মূল্য থাকবে না। সবদিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বৈঠকে। তবে অবশ্যই সবার আগে মাথায় রাখতে হবে ক্রীড়ামন্ত্রকের নির্দেশিকা।

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I