স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে বেটিংয়ের একটি বড়সড় চক্রের হদিশ পেয়েছে বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ। এই চক্রের তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের সঙ্গে মেমারি ও বর্ধমানের আরও কয়েকজন জড়িত বলে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিশ।

বেটিংয়ের জাল বহুদূর বিস্তৃত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। রাজ্য জুড়ে এই বেটিং চক্র সক্রিয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। বেটিংয়ের এই কারবারে কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলছে বলে পুলিশের অনুমান। অ্যাপস ব্যবহার করে বেটিং চলে। এই ধরণের চারটি অ্যাপসের হদিশ পেয়েছে পুলিশস। বেটিং চক্র দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

ধৃতদের নাম সুরঞ্জন বিশ্বাস, কালীচরন সাউ ও পার্থসারথী বিশ্বাস। মেমারির ব্রাহ্মণপাড়া, কলেজপাড়া ও দেশবন্ধুপল্লিতে ধৃতদের বাড়ি। বেটিংয়ে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি আইফোনও রয়েছে। এছাড়াও ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৬০ হাজার টাকা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এছাড়াও বেটিংয়ের হিসাবপত্র রাখার জন্য ব্যবহৃত খাতাপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে মেমারি থানার সাব-ইনসপেক্টর বুদ্ধদেব ঘোষ অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তার ভিত্তিতে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও জুয়া চালানোর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে এবং বেটিংয়ের কারবারের বিষয়ে বিশদে জানতে ধৃতদের ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। ধৃতদের ১ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা। যদিও এতবড় ঘটনার বিষয়ে একদিনের পুলিসি হেফাজত নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে সুরঞ্জনের বাড়িতে বসে বেটিং চক্র কারবার চালাচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিস সেখানে হানা দেয়। পুলিশকে দেখতে পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায়। পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে। সেই সময় বেটিং নিয়ন্ত্রণ করছিল ধৃতরা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, ডায়মন্ডএক্সচডটকম, জিওএক্সচেঞ্জডটকম, পাির্কংপ্লেক্রিকেট, অ্যালাউ৪৪৪ডটবেট ও স্কাইএক্সচেঞ্জ এই ৪টি অ্যাপ ব্যবহার করে বেটিং চালায় ধৃতরা।

অ্যাপসের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আইপিএল ক্রিকেট নিয়ে বেটিং চালাচ্ছিল তারা। বেটিং চক্রে বর্ধমান শহরের দু’জন জড়িত। মূলত তারাই বেটিং চক্রের কিংপিন। চক্রটি বর্ধমান শহরে বসে নিয়ন্ত্রণ করে তারা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চক্রের লোকজন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে সক্রিয় এই বেটিং চক্র। চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ৫ জনের নাম পেয়েছে পুলিস।

মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, অ্যাপ ব্যবহার করে চক্রটি বেটিং চালায়। বেটিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলছে। প্রাথমিকভাবে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে চক্রের কাজকের্মর পরিধির বিষয়ে বিশদে জানার চেষ্টা করা হবে। কলকাতারও কয়েকজন চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গিয়েছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।