বিশেষ প্রতিবেদন:  বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরাতে আবারও নাশকতার সম্ভাবনা উস্কে উঠেছে৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে চলতে থাকা আন্দোলন হিংসাত্মক আকার নিতে পারে৷ এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকেই হাতিয়ার করা হচ্ছে৷ যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি অহিংস পথেই বিক্ষোভ চালানো হবে৷

সূত্রের খবর, উত্তর পূর্ব ভারতের কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী এই সুযোগ হাতছাডা় করতে চাইবে না৷ দীর্ঘ সময় শান্ত থাকা ত্রিপুরার মাটিতে ফের রক্তাক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদের ছবি দেখা যেতে পারে৷ আগেই জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে অস্ত্রের জোগান দিয়েছে নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী৷ সেই রেশ ধরেই ত্রিপুরাতে কয়েকটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে চলেছে৷

সূত্র বলছে, সম্প্রতি মণিপুরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের চারমাসের আন্দোলনে রাজ্য বিচ্ছিন্ন হয়েছিল৷ জাতিগত সংঘর্ষের জেরে তৈরি হওয়া সেই অচলাবস্থা মিটে যায় নির্বাচনের পরে৷ ত্রিপুরার মাটিতেও সেই একই অবস্থা তৈরি করতে চলেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা৷

আগেই মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়েছেন, রাজ্য সংলগ্ল বাংলাদেশের জমিতে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয়৷ তাঁর মন্তব্যের পর চিন্তিত হয়ে পড়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ পরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা কেএলও জঙ্গিরা ধরা পড়ে দক্ষিণ ত্রিপুরায়৷

এদিকে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধরের অভিযোগ, রাজ্যভাগের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এতে উস্কানি দিচ্ছে কেন্দ্র৷ যদিও ত্রিপুরা বিজেপি এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানায়, তারা তিপ্রাল্যান্ডের বিরোধী৷ কংগ্রেসের তরফেও রাজ্য ভাগের দাবি অযৌক্তিক বলে জানানো হয়েছে৷

আর পৃথক তিপ্রাল্যান্ড আন্দোলন চালানো সংগঠন ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (আইপিএফটি) এনসি দেববর্মা গোষ্ঠীর দাবি তাদের আন্দোলন থামবে না৷ সেই রেশ ধরে নগ্ন হয়ে পৃথক রাস্তা অবরোধ, রেল রোকো সব মিলে রাজধানী আগরতলার সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন৷