বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: অরল্যান্ডোয় সমকামীদের নাইট ক্লাব আক্রান্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হতবাক হয়ে গিয়েছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর টুইটারে৷ ওই ঘটনায় হতাহতদের পরিজনদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনাও প্রকাশ পেয়েছে তাঁর টুইটারে৷ অথচ, খোদ ভারতের এলজিবিটি (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার অর্থাৎ, সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী)-রাই এখনও পর্যন্ত আইনত অর্জন করতে পারেননি ভালোবাসার অধিকার৷ আর, তাই, কলকাতা এবং এই শহরের আশপাশ  অঞ্চলের এলজিবিটিদের তরফে এ বার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ৩৭৭ নম্বর ধারার বিলোপ ঘটিয়ে কেন তাঁদের জন্য ভালোবাসার অধিকারকে মুক্ত করতে সেভাবে কোনও প্রচেষ্টা নেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে?

আরও পড়ুন: সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!

অরল্যান্ডোয় সমকামীদের নাইট ক্লাব আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে শনিবার কলেজ স্কোয়ারে মোমবাতি প্রজ্বলন করেছেন কলকাতা আর এই শহরের আশপাশ অঞ্চলের বহু এলজিবিটি এবং তাঁদের পরিজনরা৷ শুধুমাত্র সমকামীদের নাইট ক্লাবের উপর আক্রমণের ঘটনাও নয়৷ বাংলাদেশে যেভাবে ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে৷ ওই দেশে যেভাবে সমকামী পত্রিকার সম্পাদককে হত্যা করা হয়েছে৷ সে সবের বিরুদ্ধেও শনিবার সন্ধ্যা ছ’টা থেকে শুরু হওয়া এই মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জারি রেখেছিলেন ওই এলজিবিটি এবং তাঁদের পরিজনরা৷ এবং, এই অনুষ্ঠান থেকেই আরও একবার ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের দাবিও তোলা হয়েছে৷

আরও পড়ুন: কলকাতায় এ বার উবের ক্যাব চালাবেন যৌনকর্মীরাpm.03

এলজিবিটি আন্দোলনের কর্মী সৌভিকের কথায়, ‘‘অরল্যান্ডোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন, সেই বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি৷  তবে, একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন, ভারতে কেন সমকামীদের জন্য ভালোবাসার আইনত অধিকার দেওয়া হচ্ছে না? কেন এ দেশে এখনও সমকামীদের ভালোবাসার অধিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হচ্ছে? অরল্যান্ডোর ঘটনায় সমবেদনা জানানোর তুলনায় ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেশি নজর দেওয়া উচিত৷’’ ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের জন্য আইনের প্রণেতা এবং রক্ষকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন কলকাতা আর এই শহরের আশপাশ অঞ্চলের এলজিবিটি এবং তাঁদের পরিজনরাও৷

আরও পড়ুন: হাসপাতালে বেড না মিললে পৌঁছে যেতে হবে কালীঘাটে!

যদিও, এলজিবিটিদের প্রতি আগের তুলনায় কিছুটা হলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মনোভাবের বদল ঘটেছে৷ তবে, সেভাবে এখনও বদল ঘটেনি বলেও জানানো হয়েছে৷ তাই বলে যে কলকাতা সহ এ রাজ্য মায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এলজিবিটিরা হতাশ, তাও কিন্তু নয়৷ কারণ, তাঁরা মনে করছেন, এলজিবিটিদের প্রতি যাতে কেউ অসম্মান না করেন, তার জন্য আইনের পাশাপাশি যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন৷ তেমনই, যেভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এলজিবিটিদের প্রতি মনোভাব বদলাচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এই মনোভাব আরও বদলের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে৷ তবে, এখনও সমাজের বিভিন্ন অংশে ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি যেভাবে বাঁকা নজরে দেখা হয়৷ তাঁদের নিয়ে যেভাবে হাসিঠাট্টা করা হয়৷ এমনকী খোদ পুলিশ-প্রশাসনের কাছেও যেভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার হতে হয় ট্রান্সজেন্ডারদের৷ তার জন্য সব থেকে আগে ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের প্রয়োজন বলেই মনে করছেন কলকাতা আর এই শহরের আশপাশ অঞ্চলের এলজিবিটি এবং তাঁদের পরিজনরাও৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

শুধুমাত্র আবার ট্রান্সজেন্ডাররাও নন৷ সমকামীরাও বিভিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন উপায়ে হিংসাত্মক ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন৷ অথচ, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের ক্ষেত্রে সেভাবে প্রচেষ্টা জারি নেই বলেও এলজিবিটিদের তরফে জানানো হয়েছে৷ যদিও, সুপ্রিম কোর্টের তরফে ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে৷ যে কারণে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন৷ এ দিকে, বিভিন্ন সময় এই বিষয়ে বক্তব্য পেশ করতে চেয়ে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুর সংসদে আবেদন জানালেও, তাঁকে বক্তব্য পেশের সুযোগই দেওয়া হয়নি৷ সব মিলিয়ে হাল-ও ছাড়ছেন না এলজিবিটিরা৷ বরং, ৩৭৭ নম্বর ধারা বিলোপের মাধ্যমে আইনত ভালোবাসার অধিকার অর্জনের দাবিতে তাঁরা লড়াই জারি রাখছেন বলেই জানানো হয়েছে৷

_____________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) শাসকের দেউলিয়া রাজনীতিতে ডাক্তার-হাসপাতাল!
(০২) ‘চিকিৎসায় উন্নয়নের নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’
(০৩) ‘সারদার সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছে মমতার সরকার’
(০৪) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!
(০৫) দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ
(০৬) ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না যৌনপল্লির ১৬% বাসিন্দা
(০৭) যোগব্যায়ামের পাঠ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী!
(০৮) সারদা-নারদের সত্য এবং মদন বনাম মদন আর মিত্র
_____________________________________________________________