ছোটবেলায় সব মেয়েদের কালেকশনে কথা বলা পুতুল বা টুইংকেল টুইংকেল ছড়া নেচে নেচে গাওয়া পুতুল থাকে। নব্বই দশকের প্রায় প্রতিটি ঘরেই এমন পুতুলের ভান্ডার ছিলো। সেই সময়কার বিলাসিতার প্রকাশ এই পুতুল হলেও আজকের শিশুদের কাছে ব্যাপারটা আর কই? আজ থেকে ১৩০ বছর আগে অবশ্য এটি একটি আশ্চর্য জিনিস ছিলই বটে।

সেই সময় এমন ঘটনা কল্পনা করাও সম্ভব ছিলো না বাচ্চাদের পক্ষে। ক্রেতারা আগ্রহ করে এই পুতুল ঘরে নিয়ে গেলেও বাড়িতে হাজির হতেই এর কীর্তি দেখে বাকিরা এমন ভয় পেয়েছেন যে তিনি বাধ্য হয়ে আবার দোকানে তা ফেরত দিয়ে এসেছেন। তাদের যিনি ভয় পাইয়েছেন, সেই মানুষটি হলেন প্রযুক্তি বিজ্ঞানের অন্যতম বিখ্যাত পুরুষ টমাস আলভা এডিসন।

১৮৯১ সালে বোস্টন শহরের হোরাস প্যাট্রিজ অ্যান্ড কোং-এর কর্ণধার বিজ্ঞানী এডিসনকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে এই দোকান থেকে পুতুল কিনে নিয়ে যাওয়ার ২২ জন ক্রেতার অভিযোগ লেখেন তিনি। অনেকেই পুতুলের গঠনগত ত্রুটির অভিযোগের কথা বলছেন।

এমনকি শব্দ চালু করার হাতল ভেঙে গিয়েছে অনেকের সেটাও বলেছেন। তবে আরো বড়ো অভিযোগ হলো ভয়ংকর একটি পুতুলের মুখ থেকে হঠাৎ ছড়া বেরিয়ে আসছে। এর ফলে শিশু ও বড়রাও ভয় পাচ্ছেন। এতে সেই বিজ্ঞানী নিজের আবিষ্কার নিয়েই রীতিমত খেপে উঠলেন। একসময় এই ভয় দেখানো পুতুলগুলির নাম রেখে বসলেন ‘লিটল মনস্টার’।

আরো পোস্ট- মিশরের ‘সোনার শহর’ থেকে কী মিললো জানেন…

ফোনোগ্রাফ যন্ত্রটিকেই আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এই পুতুলের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন এডিসন। মোমের প্রলেপ দেওয়া মিনি ক্যাসেটের মধ্যেই রেকর্ড করা হল ছড়া। ছোটো একটি ক্যাসেটে বড়জোর ২০ সেকেন্ডের রেকর্ডিং করতে পারে। তাই এই সমস্যা থেকে বাচঁতে একটার পর একটা ক্যাসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরপর বাজানোর ব্যবস্থাও হল। এরপর আনা হলো বাছাই করা ২২টি ছড়াও।

এইসব ছড়া আবৃত্তি করার জন্য ১৮ জন কণ্ঠশিল্পীকে জোগাড় করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা একটাই ছিল যে বেশিরভাগ পুতুলের শরীরে কোনো পোশাক পরাননি এডিসন। যাদের পোশাক ছিল সেগুলিও ছিল একেবারেই স্বল্প। এমন পুতুলের মুখ থেকে হঠাৎ শব্দ বেরিয়ে এলে ভয় লাগা স্বাভাবিক।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.