স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: রেলের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোতলা বাড়ি। বাড়ি বানিয়ে শুরুও করেও দিয়েছিলেন বসবাস। কিন্তু হঠাৎ করে সেই শখের বাড়ি যে তাসের ঘরের মতোন ভেঙে ফেলতে হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি জ‍্যোতিলাল বানিয়া।

রেলের নির্দেশে কার্যত তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। শুধু জ‍্যোতিলাল বানিয়া একা নন, ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলের জমি দখল করে থাকা শতাধিক বাড়ি ও দোকানকে। এই অবস্থায় কোথায় যাবেন। কি করবেন এই ভাবনাতেই রীতিমত রাতের ঘুম উড়েছে তাঁদের।

রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আদরপাড়া এলাকায় রেলের অনেকটা জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করেছেন জ‍্যোতিলাল বানিয়া নামে এক ব‍্যক্তি। রেল দফতরের‌ই প্রাক্তন কর্মী আবার তিনি। জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের জন‍্য নতুন লাইনের কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে রেল কর্তৃপক্ষের। মঙ্গলবার ভূমি দফতরের আধিকারিক, রেল কর্তৃপক্ষ ও পুরসভার আধিকারিকরা এসে জমির মাপার পর চব্বিশ ঘন্টা সময় দেয় ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলার। এই নির্দেশর পরই শুক্রবার দুপুরে রেল ও পৌরসভা যৌথভাবে জেসিপি দিযে বাড়ি ভেঙে ফেলে। শুক্রবারই এই খবর জানান, জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর সৈকত চট্টোপাধ্যায়।

এদিকে ওই পরিবারের কথা চিন্তা করে কিছুটা জমি বাঁচিয়ে ফেলে বাড়ির ভিতর দিয়ে ড্রেন নিয়ে ফের নতুন করে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রেলের পক্ষ থেকে সমস্ত বেআইনি দোকান ও বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয় শুক্রবার। এদিন সকাল থেকে শতাধিক বাড়ি ও দোকান ভেঙে ফেলা হয়।

সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি থেকে হলদিবাড়ি হয়ে বাংলাদেশের চিলাহাটির রেল লাইনের কাজ এগিয়ে নেবার জন্য তৈরি হবে এই নতুন রেল লাইন। এর জন্য জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন সংলগ্ন এলাকার সমস্ত দোকান ভেঙে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেআইনি দোকান, বাড়ি সবকিছুই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার দুই নম্বর ঘুমটি থেকে টাউন স্টেশন পযন্ত রেল লাইনের পাশে থাকা বেআইনি বাড়িঘর ও দোকানের মালিকরা নিজেরাই পুরো অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও