প্রতীকী

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সিলিন্ডার মাথায় গামছা পরে অর্ধনগ্ন অবস্থায় প্রতিবাদ জানাল আইএনটিইউসি। ওঁরা বলছেন কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর বিরুদ্ধেই তাদের এমন প্রতিবাদ। কিন্তু কি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্র।

আইএনটিইউসি জানিয়েছে, ‘২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্র বলে এসেছে কংগ্রেস গ্যাস থেকে পেট্রোল সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে। ওঁরা তা কমিয়ে দেবে। সে সব হয়েইনি। উল্টে বেড়েই গিয়েছে এবং তা আরও বাড়ছে। আগামী দিনেও তা বাড়বে’

‘একরাশ বিপদের মাঝখানে শুয়ে আছি, আমলকী বনে শোনো বসন্ত এসে গেছে’। এই গানের অর্থ যদি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মেলানো হয় খাপে খাপে তা মিলে যেতে পারে। কারণ পেট্রো পন্যের উপর্যুপরি মূল্য বৃদ্ধিতে সমস্যায় সাধারণ মানুষ এদিকে কেন্দ্র বলছে দেশের বিকাশ হচ্ছে। এ কেমন সুখকর বসন্ত যেখানে বেড়েই চলে বিপদ? এই বিষয়টাকেই সামনে রেখে আজ পথে নামছে আইএনটিইউসি। তাদের স্লোগান স্লোগান , ‘কেনার ক্ষমতা নেই দামী জ্বালানী, শুয়ে আছি , পকেটের নেই মানি’।

নকল দাড়ি লাগিয়ে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন অফিসের সামনে প্রায় আদুল গায়ে শুয়ে তাঁরা প্রতিবাদ জানাবেন পেট্রোল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। দাড়ি কেন? তাঁরা জানালেন তা মোদীর প্রতীকী। আর খালি গা? এখানেও একটি বাংলা গানের লাইনের সঙ্গে প্রতিবাদে মিল। কখনও ‘চটি জামা ছেড়ে রেখে রাস্তায় এসে দাঁড়াস’। আইএনটিইউসি যেন বলতে চাইছে মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের এমন আদুল গায়ে হওয়ারই পরিস্থিতি। তাই সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি তুলে ধরতে তাদের এমন ‘বসন’।

প্রতীকী

একইসঙ্গে তাঁরা জানাচ্ছেন , ‘পেট্রোল ২০১৪ সালে ৭০ টাকা তার কমেও পাওয়া যেত। দু’একবার তা বেড়েছে কিন্তু তা অসহনীয় কোনওদিন হয়নি। তখন এই সরকার বলেছিল এর দাম বেশী। এবার কি হচ্ছে ১০০ ছুঁই ছুঁই পেট্রোল , ডিজেল প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি। অনেক রাজ্যে তা একশো পেরিয়ে গিয়েছে। এবার যদি গ্যাসের দামের কথা বলা হয় তা বছর ছয় সাত আগেও ৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত এখন তা কিনতে গেলে মানুষকে ৮০০ টাকা গ্যাঁটগচ্ছা দিতে হচ্ছে। এরপরেও এই কেন্দ্রীয় সরকার বলছে বিকাশ হচ্ছে। দেশ অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে।’ তাদের প্রশ্ন, ‘এ কেমন অগ্রগতি যেখানে দেশের সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে দেওয়া হয়? এটা কেমন অগ্রগতি যেখানে সম্পত্তি বেড়েই যায় শুধুমাত্র ধনীদের? আগে ভরতুকি ছিল গ্যাসে। সেটাও তুলে নেবে। এসব কেন করা হচ্ছে? এভাবে কি অগ্রগতি হচ্ছে দেশের তা জবাব দিক কেন্দ্রীয় সরকার। এর বিরুদ্ধেইএ আমাদের এই প্রতিবাদ’

প্রসঙ্গত, সোমবার বিরতি নিয়ে মঙ্গলবার ফের দেশ জুড়ে হু হু করে বেড়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি এক টাকা সেসে ছাড় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিন দিন যদি এই একই হারে দাম বাড়ে আবার তা এক জায়গাতেই চলে আসবে তা স্পষ্ট। কারণ এদিন গড়ে ৩৫ পয়সা করে দাম বেড়েছে পেট্রোলের।

মঙ্গলবার কলকাতায় পেট্রোলের দাম হল লিটারপ্রতি ৯১ টাকা ১২ পয়সা। ডিজেলের দাম হল লিটারপ্রতি ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। আজ থেকেই পেট্রোল ডিজেলে ১ টাকা সেস কমাল রাজ্য। যদিও তার সুবিধা পুরোপুরি পেলেন না সাধারণ মানুষ। কারণ দু’দিন এক জায়গায় থাকার পর আজ ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম। দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ছিল লিটারে ৯০.৬২ টাকা। ৩৫ পয়সা বেড়ে তা হয়েছে ৯০.৯৭ টাকা। ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটারে ৮১.০১ টাকা। আজ তা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটারে ৮১.৩৬ টাকা। মুম্বইয়ে পেট্রোলের দাম ৯৭.৩৪ টাকা, বাড়ল ৩৪ পয়সা। ডিজেলের দাম ৮৮.৪৪ টাকা, বেড়েছে ৩৮ পয়সা। চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম ৯২.৯০ টাকা, দাম বেড়েছে ৩১ পয়সা, ডিজেলের দাম ৮৬.৩১ টাকা দাম বেড়েছে ৩৩ পয়সা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।