ফাইল ছবি

প্রতিবেশী বাংলাদেশ৷ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনবহুল এই দেশ ক্রমে বিশ্বজনীন অবস্থান পাকা করে চলেছে৷ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক৷ বাংলা ভাষার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসমবাসীর সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ৷ নাগরিকপঞ্জীকরণের মতো বিতর্ক ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে কী ভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, কলকাতা ২৪x৭-কে খোলাখুলি জানালেন দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড.শাম্মী আহমেদ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রসেনজিৎ চৌধুরী

১ প্রশ্ন: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে৷ তিনি কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গেও বিশেষ জনপ্রিয়৷ তাঁর স্মৃতিতে এই বাংলায় কোনও উদ্যোগ নেওয়া হবে কি বাংলাদেশের তরফে ?

উত্তর: বঙ্গবন্ধু দুই বাংলায় জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন শোষিতের পক্ষে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার মিলে ঠিক করতে পারে কি কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। পার্টি টু পার্টি উদ্যোগ নিতে পারে ভালো কিছু করার ব্যাপারে। তবে আমরা ভেবে দেখবো এই বিষয়টি।

২ প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ পরপর ক্ষমতায় থেকে নজির গড়ল৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে দলটির ভূমিকা যেমন তাতে বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকেন ৷ কিন্তু একাংশ মুক্তিযোদ্ধার মুখে বারবার সরকার ও ভারত বিরোধী ক্ষোভ প্রকাশ হয়৷ এটা তো সরকারের পক্ষেই অস্বস্তি বলে চিহ্নিত হচ্ছে৷ কী বলবেন ?

উত্তর: দেখুন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র,এখানে স্বাধীন ভাবে মৌলিক অধিকার চর্চা করতে পারে সবাই। সবাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাচ্ছে। কাজেই স্বার্থান্বেষী গুটিকয়েক মানুষের কারণে এই সরকারের বিব্রত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড: শাম্মী আহমেদ৷

৩ প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বারে বারে গুম করা ও বন্দুক যুদ্ধে অপরাধী মারার বিষয়টি নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক মহল৷ এই বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কি ?

উত্তর: জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আইনের শাসনের সরকার। বাংলাদেশের প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে গুমের প্রশ্নই আসেনা। সাম্প্রতিক কালে আমরা দেখতে পাচ্ছি সকল হত্যাকান্ডের বিচার হচ্ছে,আপনি দেখেন বুয়েটের আবরার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সবাই গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় আছে। ফেনীর নুসরাত হত্যাকারী সবার ফাঁসির রায় হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ডের আসামীদের ফাঁসির রায় হয়েছে। বিচারের বাইরে কেউ নয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিভ্রান্তকর সংবাদ ছাপিয়ে যাচ্ছে। তাদের কে বলা হলো একটি পরিসংখ্যান দিতে কতজন গুম বা হত্যার শিকার হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সেই পরিসংখ্যান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

৪. প্রশ্ন: পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে বাংলাদেশও সার্কের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে মুখ ঘুরিয়েছে৷ ঢাকা কি মনে করছে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কাজে লাগবে ?

উত্তর: বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তান পরাজয়ের গ্লানি থেকে বের হয়ে আসতে পারছেনা। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করে, ৭১ গণহত্যার জন্য পাকিস্তান ক্ষমা চায়নি। ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করে। সার্কভুক্ত দেশগুলো একে অপরের সাথে মর্যাদাপূর্ণ ভাবে যদি সম্পর্ক চলমান রাখে তাহলেই ফলপ্রসূ কিছু সম্ভব। তবে নতুন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চ করা যেতে পারে যেখানে পজিটিভ ভাবে কাজ করা যেতে পারবে সব প্রতিবেশী রাষ্ট্র।

৫ প্রশ্ন: তিস্তার জলবন্টন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনড় অবস্থান৷ অথচ আপনারাই ফেণী নদীর জল দিলেন ত্রিপুরাকে৷ এই নিয়ে ঘরের মধ্যেই বিতর্ক চরমে৷ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণই কি লক্ষ্য ?

উত্তর: আমরা অনেক ভাবে প্রমাণ করেছি, হৃদয়ের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক ধনী। মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কোনও রাজ্য যদি বিপদগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কাজেই ত্রিপুরাকে পানি দিয়েছি তাদের সেই পানি অনেক প্রয়োজন আছে বলেই, তাতে আমাদের তেমন কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটলে সবাই উপকৃত হবে।

৬ প্রশ্ন: ভারতের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ বা এনআরসিতে বাংলাদেশি চিহ্নিত করা হচ্ছে৷ অসমে জারি হয়েছে সেটি৷ ক্ষমতায় থাকা দল বিজেপির নেতারা বলছেন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরৎ পাঠাবেন৷ বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকে বিহারিরা রয়েছেন৷ তাদের সম্পর্কে কি অবস্থান নেবে আওয়ামী লীগ ?

উত্তর: ভারতে আসাম রাজ্য যে এনআরসি সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতে বাংলাদেশের কোনও অনুপ্রবেশকারী নেই, তা আরেকটি সাক্ষাৎকারে আমি বলেছি। বাংলাদেশে যে বিহারি রয়েছে তারা অনেক বছর ধরেই এদেশের বাস করছে, এমন ভাবনা নেই যে বিহারিদের বের করে দেয়ার।

আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশ একটি মানবিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশ কাউকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠাবে না। সার্কভুক্ত দেশগুলো এই ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করে বিহারিদের ফেরত পাঠাতে পারে।

৭ প্রশ্ন: বাংলাদেশ কি এনআরসি ধাঁচে কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নিতে পারে৷ কারণ, বহু সীমান্তবর্তী এলাকায় ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন চলছে৷

উত্তর: বাংলাদেশের একটা প্রচেষ্টা, বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিকভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করে বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো।

৮ ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের আপত্তি৷ বলা হয় ফারাক্কার কারণেই বহু এলাকা বন্যা কবলিত হয়৷ কিন্তু বাংলাদেশ এই গঙ্গা-পদ্মার বিপুল জলরাশি ধরে রাখতে সক্ষম ? সেই দিকে জোর দেওয়া হয়নি এটাও বাস্তব৷

উত্তর. ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি ছিলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদী গুলোকে ড্রেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে গভীরতা বাড়িয়ে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নদীগুলো কে জীবন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আশাকরি অচিরেই এই সমস্যা কেটে যাবে।

৯ প্রশ্ন: সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে৷ অথচ আন্তর্জাতিক সীমান্তের বহু এলাকা এখনও অরক্ষিত ৷ ভারতের দিকে সতর্কতা থাকলেও বাংলাদেশের দিকে কেন এই অবস্থা৷

উত্তর: বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। সন্ত্রাস একটা বৈশ্বিক সমস্যা। এটা সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সবসময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

১০ প্রশ্ন: চিকিৎসা বিষয়ে বাংলাদেশের বহু মানুষ ভারতের উপর নির্ভরশীল৷ দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে অতি উন্নতমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার কথা এখনও ভাবা কেন হয়নি৷

উত্তর: এটি অনেক সুন্দর প্রস্তাব, আমি মনে করি এখন সময় এসেছে একে অন্যের সহযোগিতায় চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি দুই দেশের সরকার একত্রে একটি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া। সেটি করার জন্য আমরাও মুখিয়ে আছি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ