কলকাতা: তৃণমূল এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বলে নয় সামগ্রিক শিল্পের ছবিটাই খুব খারাপ বলে মনে মনে করেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী দেবেশ দাস৷ কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক কিছু উদ্বোধন করতে দেখা যায় কিন্তু কারখানা উদ্বোধন করতে দেখা যায় না৷ তেমন ছবি কোথায় প্রশ্ন তুলে দেবেশবাবু দাবি করেছেন, বরং বাম আমলে তিনি পাঁচবছর মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর নিজের তো বহু ছবি রয়েছে কারখানা উদ্বোধনের৷

রাজ্যে এমন পরিস্থিতির কারণ হিসেবে তিনি রাজ্যের তোলাবাজির আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন ৷ রাজ্যের প্রাক্তন এই মন্ত্রীর অভিযোগ, এই সরকার নতুন কোনও শিল্প আনেনি যা হচ্ছে তা তো বাম জমানাতেই আসতে শুরু হয়েছিল৷

তবে শিল্পের অবস্থা যে এখানে বলে নয় গোটা দুনিয়াজুড়েই খারাপ তা মেনে নিয়েছেন এই বাম নেতা৷ তিনি আজকের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে ২০০৮ সালে মন্দার প্রসঙ্গ তুলেছেন৷ তখনও গোটা দুনিয়ার পাশাপাশি এ রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পও ধাক্কা খেয়েছিল৷ তবে তা কাটিয়ে উঠেছিল৷ তারপরে উইপ্রো ইনফোসিসকে ৫০ একর করে জমি দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরে আট বছরে কি হল ? এই প্রকল্পগুলি কতটা এগোল তা নিয়ে রাজ্য সরকাররে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি৷

এদিকে এখন আবার বহু সংস্থার কর্মী সংকোচন হচ্ছে ফলে ইউনিয়ন মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে ৷ এই অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের নিজেদেরই ঠিক করতে হবে তারা ইউনিয়ন করবেন কি করবেন না বলে মনে করেন দেবেশবাবু ৷ রাজ্যে প্রাক্তন এই মন্ত্রী দাবি করেন, মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কখনই বলেননি এই কর্মীরা ইউনিয়ন করতে পারবে না৷ তখনও তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি কেউ ধর্মঘট করতে চায় সে করতেই পারে আর যে চায় না তার উপর যেন কোনওরকম জোরজুলুম করা না হয়৷

ইউনিয়ন করার পক্ষে সওয়াল করলেও তা করলেই সব সমাধান হয়ে যাবে তা মনে করেন না প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ৷ কিন্তু অনেক সময় মন্দার অজুহাতে চাকরি যায় ৷ তবে প্রকৃত পরিস্থিতি কর্মীদের বুঝতে সাহায্য করে এবং একটা দরাদরি জায়গায় আসা যায় ইউনিয়নের মাধ্যমে বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি৷ তবে এমন শিল্প সংকটের জটিল পরিস্থিতিতে কাউকে কাউকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি ৷ আর এমন পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার থেকে মালিকপক্ষ সকলকেই দায়ি করেছেন দেবেশ দাস৷ kolkata24x7এর প্রতিনিধি সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী দেবেশ দাসের একান্ত আলাপচারিতায় উঠে এসেছে এই সব কথা৷