তাঁর গানের গুরু এ আর রহমান৷ সারেগামাপা-লিটল চ্যাম্পসের ফাইনাল অবধি পৌঁছেছিলেন৷ তবে এখন কোনও রিয়্যালিটি শো নয়, শুধুই সাধনা৷ দিল্লিতে মর্মান্তিক গণধর্ষণের ঘটনার পর তার প্রতিবাদে অ্যালবামও করেছেন৷ একাদশ শ্রেণির ছাত্রী অন্তরা নন্দীই আজকের অনন্যা৷

antara-2

গান শুরু করলে কবে থেকে?

উ: আমার যখন দু’বছর বয়স তখন থেকেই আমি গান শুরু করি৷ সঠিক মনে নেই, তবে মায়ের মুখে ‘তুম দিল কি ধড়কন মে’ শুনতাম৷ আরও নানা গান গাইত মা৷ সেই শুনে শুনেই গান গাওয়া শুরু৷

তাহলে তোমার মা তোমার ট্যালেন্ট প্রথম বুঝতে পারেন?

উ: না, আসলে আমার বড় মাসি প্রথমে বিষয়টা বুঝতে পেরেছিলেন৷ তিনিই মাকে বলেছিলেন আমায় গান শেখাতে৷ তারপরে আমার এক প্রতিবেশি দিদি আমায় গান শেখাত৷ আমার যখন চার বছর বয়স বাবার চাকরি সূত্রে আমরা কল11429670_1145971402096105_283729397555888105_nকাতায় চলে আসি৷ তখন আমার স্কুলের প্রিন্সিপালও মা-বাবাকে আমায় ভাল করে গান শেখাতে বলেন৷ তারপরেই ওস্তাদ রশিদ খানের ইনস্টিটিউটে আমাকে ভর্তি করা হয়৷

কলকাতার আগে কোথায় থাকতে?

উ: অসমে৷ আমার জন্ম শিবসাগরে৷ তারপরে স্কুলিং শুরু হয়েছিল তিনশুকিয়ায়৷

এখনও কি উস্তাদ রশিদ খানের কাছেই গান শিখছ?

উ: না, ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওখানে গান শিখেছি৷ তারপরে ওস্তাদ ওয়াসিম আহমেদের কাছে তালিম নিচ্ছি৷ প্রায় দু’বছর হল চেন্নাইতে এ আর রহমানের প্রতিষ্ঠানেও গান শিখছি৷ এছাড়াও আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতেও গান শিখছি৷ আমি ওখানকার জুনিয়র স্কলার৷11846057_1026649754025477_582585723_n

‘সারেগামাপা’র মঞ্চে কিভাবে গেলে?

উ: ছোটবেলা থেকেই ‘সারেগামাপা’ দেখতাম৷ ওখানে যাওয়ার ভীষণ ইচ্ছে ছিল৷ টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতাম৷ তারপরেই সল্টলেক স্টেডিয়ামে অডিশন দিতে গেলাম৷ ভাবিনি যে সিলেক্ট হয়ে যাব৷ তিনটে অডিশন টপকে অলকাজির কাছে অডিশন হল৷ ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম৷ কিন্তু সেখানেই পাশ করলাম৷ সেদিন বাবা মায়ের আনন্দ বলে বোঝানোর মত না৷

‘সারেগামাপা’র গোটা জার্নিটা কেমন ছিল?

উ: ওখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি৷ গোট ভারত থেকে মোট ৫৩ জনকে সিলেক্ট করা হয়েছিল৷ আমি খুব সৌভাগ্যবান যে তাদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম৷ আমি ২০০৯ সালের ৩০ তারিখ প্রথম মুম্বই যাই৷ ওই মঞ্চ থেকেই কীভাবে স্টেজে গান গাইতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে হয় সে সব শিখেছি৷

বাড়ি থেকে কোনও চাপ ছিল, যে তোমায় জিততেই হবে…

উ: না আমার বাবা মা কোনও দিনও আমায় চাপ দেয়নি৷ ওঁরা সব সময় বলত জেতা হারাটা কোনও বিষয় নয়৷ ওখান থেকে যতটা সম্ভব শিখতে বলেছিলেন ওঁরা৷

তুমি তো ছোটবেলা থেকেই ক্লাসিক্যাল শিখেছ৷ আর ওয়েস্টার্ন মিউজ্যিক?

উ: না ওয়েস্টার্ন মিউজ্যিকের কোনও ট্রেনিং আমি নিইনি৷ শুনে শুনেই গাওয়ার চেষ্টা করি৷

আচ্ছা সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স নিয়েও তো তুমি অ্যলবাম করেছ?

উ: হ্যাঁ, ‘আওয়াজ’ নামের একটা অ্যাল391295_471972426159882_907265236_nবাম করেছি৷ ওটা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেই কথা হয়েছে৷ দিল্লিতে মর্মান্তিক গণধর্ষণের ঘটনার পরেই এটা করি৷

ভবিষ্যতের কি প্ল্যান? প্লে ব্যাক করবে?

উ: হ্যাঁ, সেরকম ইচ্ছেই আছে৷ অসমিয়া ভাষায় আমার দুটো অ্যালবাম বেরিয়েছে৷ তাছাড়া বাংলা সিরিয়ালের টাইটেল ট্র্যাকেও গান গেয়েছি৷ হলিউডের একজন মিউজ্যিক ডিরেক্টরের সঙ্গেও একটা কাজ করেছি৷ আর ‘খেল’ ও ‘ধীরে ধীরে’ নামের দুটে অহমিয়া ছবিতেও গান করেছি৷ তার মধ্যে ‘ধীরে ধীরে’ খুব তাড়াতাড়ি রিলিজ করতে চলেছে৷

একদিকে গান একদিকে পড়শোনা ম্যানেজ কর কীভাবে?

উ: আমি এবছর মাধ্যমিক দিলাম৷ গানের শোয়ের সঙ্গে পড়াশোনা চালতে খুব বেশি কষ্ট হয় না৷ হ্যাঁ, পরিশ্রম তো আছেই৷ আমি চাই বড়রা আমায় আশীর্বাদ করুন, তাহলেই আমি পারব৷ আসলে আমি উইকএন্ড বা ছুটির দিনেই গানের শো বা রেকর্ডিং করি, আর বাকি দিনগুলো শুধুই পড়াশোনা৷ পরীক্ষার জন্য বেশ কিছুদিন শো করিনি৷

বলিউড বা টলিউডে অন্তরার গান কবে শুনব?544944_1064062970286949_8443501788542293070_n

উ: ‘খেল’ নামের যে ছবিটা করছি সেটা আমার জীবনে একটা বড় ব্রেক৷ তবে টলিউড বা বলিউড নিয়ে এখনও কিছু ভাবিনি৷ পড়াশোনাটা আগে৷ আমি যখন ‘সারেগামাপা’য় ছিলাম তখন অভিজিৎ স্যার (ভট্টাচার্য) বলতেন ‘অন্তু পড়াশোনাটা কিন্তু আগে’৷ তাই যে কাজ করি সেসব আফটার টুয়েলভ৷

অন্তরা, গানের পাশাপাশি আর কী ভালবাস?

উ: আমি ভীষণ খেতে ভালবাসি৷ ননভেজ যে কোনও আইটেম আমার পছন্দ৷ বিশেষ করে মাছের কোনও প্রিপারেশন৷ আর রসগোল্লা খেতে আমি ভীষণ ভালবসি৷ সুযোগ পেলেই ফ্রিজ থেকে রসগোল্লা চুরি করে খাই৷ কারণ এমনিতে মা খেতে দেয় না৷