স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট।

বিশ্বভারতীর ঘটনা কিভাবে ঘটল, পুলিশের সামনে কিভাবে ভাঙচুর চলল সেই প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। তাঁর আবেদন ছিল, গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সিআইএসএফ নিয়োগ করার। এবং ক্যাম্পাসের আবাসিক ছাড়া যাতে বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়া। সেই মামলা শুক্রবার নিজেদের হাতে তুলে নিল হাইকোর্ট।

জানা গিয়েছে, ৪ সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায়। কমিটিতে বিচারপতি বন্দোপাধ্যায় ছাড়াও থাকছেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায়, অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এবং কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াই জে দস্তুর। আদালত বান্ধব নিযুক্ত করা হল সিনিয়র আইনজীবী জয়দীপ কর-কে। এই কমিটিই দেখবে বিশ্বভারতী চত্বরে কোথায় পাঁচিল দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আপাতত পুলিশ কোনও কাজ করবে না। এই সংক্রান্ত যাবতীয় মামলাও দেখবে এই কমিটি।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাঁচিল ভাঙায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ। বিধায়ক ছাড়াও আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়াদের একাংশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা। এই তাণ্ডবের পর সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঁচিল তোলার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “ওখানে বহিরাগতদের জড়ো করে পাঁচিল তোলা হচ্ছে। এই পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুক্ত শিক্ষার ভাবনা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।”

এদিকে, দুদিন আগেই সংসদে ‘জিরো আওয়ারে’ বিশ্বভারতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। একই সঙ্গে পৌষমেলার দায়িত্বও কেন্দ্রকে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।