কলকাতা : আমপানের তাণ্ডবে গত সপ্তাহে তছনছ হয়েছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সাত জেলা। বিদ্যুৎ পরিষেবা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি ধাক্কা খেয়েছে মোবাইল তথা নেট পরিষেবাও। আর তার জন্য ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। ঠিকমতো ইন্টারনেট পরিষেবা না পাওয়ায় ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যাহত হচ্ছে । ফলে এই লকডাউনের পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় ফেলছে কর্মী থেকে সংস্থা কর্তৃপক্ষকে।

আমফানের আঘাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং তার-অপটিক্যাল ফাইবার কাটা পড়ায় গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের পাশাপাশি‌ টেলিকম পরিষেবাও বিপর্যস্ত হয়েছে।‌ পরিস্থিতি কেমন তা জানতে সোমবার কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ এরাজ্যে থাকা বিএসএনএলের দুই সার্কেলের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন মন্ত্রী নির্দেশও দেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করার জন্য।

তবে বিএসএনএল বলে নয় অন্যান্য বেসরকারি টেলিকম সংস্থারও পরিষেবা ধাক্কা খেয়েছে। ভোডাফোন এয়ারটেলের মতো সংস্থার পরিষেবা এতদিনেও বহু জায়গায় স্বাভাবিক না হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। কোনও কোনও জায়গায় মোবাইল এবং ওয়াইফাই এখনও অচল। কোথাও আবার ফোনে শুধুমাত্র কথা বলা যাচ্ছে কিন্তু নেট পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও বা নেট পাওয়া গেলেও তার গতি খুবই ধীর। সময়ে সময়ে গ্রাহকেরা ওইসব সংস্থার কাছ থেকে এসএমএস পাচ্ছে- কাজ চলছে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক হবে এমন আশ্বাস দিয়ে।

লকডাউন শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে অনেকটা। তবে তা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়নি তার কারণ যেসব ধরনের কাজ অফিসে না গিয়ে বাড়ি থেকে করা সম্ভব সেগুলি বাড়ি থেকে করার চেষ্টা করা হয়। বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে লকডাউনে বাধ্য হয়ে কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম করাতে বসে সংস্থা ।

আর তারপর কর্তৃপক্ষ অনুভব করে এইভাবেও কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। যার ফলে বহু ছোট বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করানোর বিষয়টির দিকে নজর দিতে থাকে। পাশাপাশি কর্মীরাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই নতুন পদ্ধতিতে কাজ করতে। কিন্তু সম্প্রতি এই ঘূর্ণিঝড় আবার এই নয়া কাজের পদ্ধতির স্বাভাবিক ছন্দকে রীতিমত ধাক্কা দিল।

প্রথমত বিদ্যুতের অভাব, পাশাপাশি ইন্টারনেটের পরিষেবা ঠিকমত না মেলায় এইসব সংস্থার প্রোডাকশন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ফিরলেও আবার অনেক জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ আসেনি। আর ইন্টারনেটের অভাবে ঠিকমতো কাজ করতে না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে কর্মী থেকে সংস্থা কর্তৃপক্ষের।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প