নয়াদিল্লি: স্বঘোষিত ধর্মগুরু বীরেন্দ্র দেও দীক্ষিতের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করল ইন্টারপোল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মহিলাকে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। দিল্লির রোহিনী এলাকায় নিজেরই আশ্রমে বছরের পর বছর ধরে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১৭ সালে প্রথম এই মামলার খবর সামনে আসে। দুই মহিলা স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। যৌন হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁরা। উত্তর দিল্লির বিজয় বিহার এলাকার আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬৭ জন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নাবালিকা। বীরেন্দ্র দীক্ষিত নামে ওই ব্যক্তির বয়স ৭৯ বছর। অভিযোগ দায়েরে পর পর থেকেই নিখোঁজ এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। মনে করা হচ্ছে নেপালে লুকিয়ে রয়েছে সে।

এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর কোনও খবর বা তথ্য দিতে পারলে সিবিআইয়ের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ, বীরেন্দ্র দেও দীক্ষিত তার আশ্রমে নাবালিকাদের যৌন হেনস্তা করত। তাদের অমানবিকভাবে রাখত। একটি ছোট্ট ঘরের মধ্যে রাখা হত তাদের। সেখানে সূর্যের আলো ঢুকতে পারত না। বাইরে বের হওয়ার দরজা ধাতপ পাত দিয়ে আটকানো থাকত। একাধিক নাবালিকার মা বাবারা বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই ওই সব মেয়েদের উপর অত্যাচার চলত। আর ১৮ বছর বয়স হয়ে গেলে তাদের দিয়ে মুচলেকা সই করিয়ে নেওয়া হত। সেখানে লেখা থাকত ওই সব মেয়েরা নিজেদের ইচ্ছায় আশ্রমে থাকতে চায়। তাদের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করারও অনুমতি ছিল না।

ঘটনার কথা সামনে আসার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা যায় সিবিআইয়ের হাতে। এরপরই বীরেন্দ্রর বিরুদ্ধে জারি হ লুকআউট নোটিস। ২০১৯ সালের জুন মাসে চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। এক এক নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতেই তৈরি হয় চার্জশিট। জানা যায় নিজের আশ্রমেই ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিল স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু। কিন্তু কোনওভাবেই বীরেন্দ্রর হদিশ পায়নি সিবিআই। এবার স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে ধরতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে সিবিআই। ইন্টারপোলের তরফে জারি করা হয়েছে রেড কর্নার নোটিস।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.