আগরতলা: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় ১১ ঘণ্টার বনধের জেরে উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের বিভিন্ন রাজ্য-তে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। তবে সবথেকে উত্তপ্ত পরিবেশ বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায়। এখানে বিলের প্রতিবাদে অশান্তির কারণে রাজ্য সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িক স্তব্ধ করল। জানা গিয়েছে, ইন্টারনেটের পাশাপাশি, মোবাইল- এসএমএস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার। এমন অবস্থায় ত্রিপুরার সঙ্গে টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন।

বিরোধী সিপিআইএম, কংগ্রেস এর তীব্র সমালোচনা করেছে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিজেপি সরকারের জোট শরিক উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি। ঘটনার সূত্রপাত,মনু বাজার এলাকায়। লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন বা নেসো উত্তর পূর্ব ভারতের সর্বত্র ১১ ঘণ্টার বনধ ডাকে। মঙ্গলবার বনধ চলাকালীন অসমের পাশাপাশি ত্রিপুরা-তেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মনু বাজারে উপজাতিদের ক্ষোভের মুখে পড়ে স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। খোদ রাজধানী আগরতলায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভ কারীদের হাতাহাতি-তে আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি।

এরপর বেলা গড়াতেই বিক্ষোভ আরও ছড়ায়। অন্যদিকে অসমের ডিব্রুগড়, গুয়াহাটিতেও বনধের প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন স্থানে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে শুরু হয় অবরোধ। অসমের চা শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখেন। তাঁদের প্রতিবাদের ছবি দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে। অসমে যখন উত্তপ্ত অবস্থা, তখন ত্রিপুরাতেও বিক্ষোভের রেশ তুঙ্গে। বিজেপি অফিসে হামলার ছবি হয় ভাইরাল।

এরপরেই বিরোধী সিপিআইএম অভিযোগ করে, বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বারে বারে। অভিযোগ, এর আগে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ঘিরে আন্দোলন চলাকালীন ত্রিপুরায় উপজাতি বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। তাকে জখম হন কয়েকজন।

মঙ্গলবার যাতে পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে না যায় তার জন্য সতর্ক ছিল ত্রিপুরা সরকার। কিন্তু মনু বাজারে হামলা, আগরতলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে প্রশাসন পরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে। বলা হয়েছে, গুজব রুখতেই এই পদক্ষেপ। নেসো অর্থাৎ নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল উপজাতিদের জাতিগত পরিচয়ের বাধা হতে চলেছে। ফলে বিলটি ঘিরে আন্দোলনের কারণে উত্তপ্ত উত্তর পূর্ব ভারত। এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও বিলটির প্রতিবাদ চলছে।

কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় হয়েছে কেন্দ্র সরকার বিরোধী অবস্থান। ক্ষমতার থাকা টি এম সি সরাসরি বিলের বিরোধিতা করলেও কেন লোকসভার ভোটাভুটিতে তাদের কয়েকজন সদস্য অনুপস্থিত তাই নিয়ে বিরোধী সিপিআইএম প্রশ্ন তুলেছে। যদিও তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, রাজ্যে এন আর সি লাগু হতে দেবেন না। (ছবি সৌজন্যে- প্রসেনজিত চৌধুরী)

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও