স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যোগা৷ শরীরকে যে কী কী ভাবে সাহায্য করে তা এক কথায় বোঝানো সম্ভব নয়৷ বিভিন্ন ব্যায়ামের আলাদা আলাদা গুণাগুণ রয়েছে দেখে নেব সেরকমই কিছু যোগা৷ কিভাবে করবেন কারা কোন যোগাটা করবেন না তা জেনে নিন৷

আজ রইল শীর্ষাসন: একে হেড স্ট্যান্ডও বলা হয়৷ শীর্ষাসন কেন করবেন? এর ফল কী? উত্তর হল যখন আমরা শীর্ষাসন করি তখন বেশ অনেকটা পরিমাণ রক্ত আমাদের মাথায় এবং তার আশপাশে পৌঁছে যায়৷ ফলে যে জায়গা গুলিতে রক্ত হৃদপিণ্ডের পাম্পের পরে খুব অল্প পরিমাণেই পৌঁছতে পারে সেই সব জায়গাগুলিতে এই আসন করলে অনেকটা রক্ত পৌঁছে দিয়ে সেই সব অর্গানের কাজ ভাল ভাবে করতে সাহায্য করে৷

এই আসন চুলের জন্য মাথার ত্বক বা স্কাল্পের জন্য খুবই ভাল৷ চোখের জন্যও এই আসন যথেষ্ট উপযোগী৷ আপনাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাঁদের দিনের বেশির ভাগ সময়টাই কাজ করতে হয় দাঁড়িয়ে৷ তিনি কোনও সেলসম্যান হন বা ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা অফিসার বা অন্য কোনও পেশার মানুষ যাঁদের অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়৷ তাঁদের জন্য শীর্ষাসন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়৷

আমাদের শরীরে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম হল একটি নেটওয়ার্ক সিস্টেম৷ শরীরের অর্গান ও টিস্যুর নেটওয়ার্কিং সিস্টেম এটি৷ এই পদ্ধতির কাজ শরীরের সমস্ত টক্সিনস বাইরে বের করে দেওয়া৷ এই সিস্টেমকে খুব ভাল ভাবে চালু রাখতেও শীর্ষাসন খুবই উপযোগী৷ জীবনের স্ট্রেস ও টেনশন, কোনও বিষয় নিয়ে ভয় কমাতে কাজে দেয় এই আসন৷ মাথায় রক্ত বেশ খানিকক্ষণ থাকার ফলে ব্রেনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়৷ এর ফলে আপনি কোনও বিষয়ে খুব ভাল করে ফোকাস করতে পারবেন৷

কারণ রক্তের পাশাপাশি ব্রেনে যত পরিমাণ অক্সিজেন দরকার হয় রক্তের সঙ্গে সেই অনেকটা পরিমাণ অক্সিজেন চলে যায় ব্রেনে৷ চোখেও৷ স্বাভাবিক ভাবেই চোখ ও ব্রেনের কাজ আরও ভালোভাবে হতে পারে৷ পা ওপরে ও মাথা নিচে থাকার ফলে আপনার হাতের তালু কাঁধ ও ঘাড়ের ওপরই থাকে দেহের ভার৷ ক্রমাগত প্রাকটিসে আপনার কাঁধ ঘার ও শরীরের সমস্ত পেশি শক্ত হয়৷ আপনার পাচন ক্ষমতাও বাড়ায় শীর্ষাসন৷ অ্যাড্রিনাল গ্লান্ড পরিষ্কার করে দেয় এই আসন৷ যার ফলে অ্যাড্রিনাল গ্লান্ড আরও ভালভাবে কাজ করতে পারে৷ পায়ে হাঁটুতে গোড়ালিতে অযথা ফ্লুইড বা রস জমা হওয়া থেকেও আটকায় শীর্ষাসন৷

কিন্তু সবারই শীর্ষাসন করা উচিত নয়৷ শীর্ষাসনেও কিছু বাধা আছে৷ যদি আপনার হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ থাকে কিমবা যদি সেরিব্রালের সমস্যা থাকে, কেউ যদি অন্তসত্বা হন কিমবা আপনার যদি লোয়ার ব্যাক ইস্যু বা কোমরের সমস্যা, কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে শীর্ষাসন করবেন না৷ এছাড়াও কনজাংটিভাইটিস ও ক্রনিক গ্লুকোমা, আর্টেরিওস্কেলেরোসিস, করোনারি থ্রম্বোসিস থাকলেও শীর্ষাসন করবেন না৷

এই আসনে ব্যবহার হয় ঘার কাঁধ হাত ও পেটের মাসলের৷ তাই সবার আগে এই মাসল গুলির ওয়ার্মআপ প্রয়োজন৷ এই আসন করার আগে এক মিনিট প্ল্যাঙ্ক করুন৷ প্রথম যদি আপনি এই আসন করতে যান তাহলে আগে কোনও দেওয়ালের সাহায্য নিয়ে বা অন্য কিছুর সাহায্য নিয়ে শরীরকে উল্টো করে দাঁড় করাতে শিখুন৷ তবে মাথায় রাখবেন৷ এই আসন করতে হলে আপনাকে পড়ে যাওয়াটাও শিখতে হবে৷

মানে আপনি যদি উল্টো হয়ে দাঁড়াতে শেখেন সেই পদ্ধতি থেকে আবারও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আসতে গেলে আপনাকে এভাবেই পড়ে যেতে শিখতে হবে৷ সেটা ঠিক মত না শিখতে পারলে চোট লাগার সম্ভাবনা থাকে৷ খুব হালকা ভাবে পড়তে হবে৷ পিঠের ওপর ভর দিয়ে৷ ঠিক যেমন ডিগবাজি খাই আমরা৷ তবে এটা কোনও সাহায্য না নিয়ে যদি আপনি শীর্ষাসন করেন সেক্ষেত্রেই উপযোগী৷ তবে যদি আপনি দেওয়ালের সাহায্য নিয়ে শীর্ষাসন করেন তাহলে যেভাবে আপনি পা ওপরে তুলেছেন সেভাবেই নামতে শিখতে হবে তবে খুব হালকা ভাবে বা ধীর গতিতে৷ ঝটকা দিয়ে নয়৷

শীর্ষাসন করতে শিখে যাওয়ার পর এই আসন দু মিনিট করুন৷ তারপর দু’মিনিট শুয়ে থাকুন৷ কারণ মাথায় রক্ত বেশি পরিমাণে যাওয়ার পর তাকে আবার স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আনতে শরীর রিল্যাক্স করুন৷ আর শীর্ষাসন করলে কখনই শুধুমাত্র ঘারের ওপর পুরো ভার রাখবেন না৷ আপনার যে দুটো হাত জোড়া করে তার উপর মাথা রেখে শীর্ষাসন করছেন তার ওপর জোড় রাখুন৷ সঠিক আসনে ঘাড়ের ওপর খুবই কম পরিমাণ জোড় পড়ে৷ তাই এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখুন৷ এবার পড়ুন উঠুন আবার পড়ুন এভাবেই শীর্ষাসন করাটা শিখে ফেলুন৷ কারণ এই একটা যোগাসনের রয়েছে হাজার গুন৷ তবে হ্যাঁ খালি পেটে করবেন এই আসন৷ এই আসন করার সঠিক সময় হল ঘুম থেকে ওঠার তিরিশ মিনিট পরে৷ ফ্রেস হয়ে নিয়ে এই আসন করুন আর হাতে নাতে সুস্থ শরীরের ফল পান৷৷ ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন৷