বিশেষ প্রতিবেদন: কিছুটা অচর্চিত। কিছুটা আলোচিত। তবুও এই ভাস্কর্য রক্তাক্ত মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনের আরও এক প্রতীক।বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভাস্কর্য তুলে ধরছে রক্তে লাল মাতৃভাষা রক্ষার সংগ্রামকে। ‘অমর একুশ’ হিসেবেই এর পরিচিতি। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্র অমর একুশ ভাস্কর্য।

এতে স্পষ্ট দেখানো হয়েছে রক্তাক্ত সন্তানকে নিয়ে মা এবং তাঁর পিছনে অকুতোভয় ভাষা সৈনিককে। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম এই ভাস্কর্য তবুও অনালোচিত। কারণ, বিশ্ব জুড়ে যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়, তার মূল কেন্দ্র হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। এখানেই বাংলাদেশ সরকার, সেনা বাহিনির তরফে যথাযোগ্য মর্যাদায় সম্মান প্রদান করা হয়। আসেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব;

১৯৫২ সালের পাক সরকার জের করে পূর্ব পাকিস্তানিদের উপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল যাওয়ায় গুলি চালায় পাক পুলিশ। সেই বসন্তের দুপুরে রক্তাক্ত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। শহিদ হন রফিক, সালাম, বরকত ও জব্বার সহ কয়েকজন। ২১ ফেব্রুয়ারির এই আন্দোলন কালক্রমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে পরিচিত হয়ে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। ঐতিহাসিক এই সৌধ তৈরি করার পরেই পাকিস্তান সরকার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। পরে সেটি নবরূপে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

অমর একুশ ভাস্কর্য: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অমর একুশ’ ভাস্কর্যের ঐতিহাসিক ভূমিকা নেই। তবে গঠন ও নান্দনিকতায় অনবদ্য। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ৩৪ ফুটের এই ভাস্কর্য। এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন। ‘অমর একুশ’ মা-বাবার কোলে সন্তানের মৃতদেহ-কে তুলে ধরেছে। মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কংক্রিটের শরীরে জীবন্ত করেছেন শিল্পী।

এই ভাস্কর্য সম্পর্কে বলা হয়, ‘অমর একুশ’ নামে উত্তাল সময়কে যেমন ধরে রাখা হয়েছে, তেমনি একটি শাণিত চেতনাকেও সামনে আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশের কলা-কৃষ্টির এক উৎকর্ষ নিদর্শন হিসেবে এর পরিচিতি। তবুও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনালোচিত।