স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া ও হাওড়া: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ সালে ২১ জুন দিনটি আন্তর্জাতিক যোগা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল৷ তারপর থেকেই রাষ্ট্রসংঘের সুপারিশ মেনে গোটা দেশে জুড়ে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক যোগা দিবস।

আর এই যোগকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তুলে ধরতে শুক্রবার যোগ প্রদর্শন করলেন হলদিয়ার সিপেট কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রিত এই কলেজে বছরে বহু ছাত্র-ছাত্রীর আনাগোনা হয়। যাদের মধ্যে অনেকেরই রোগব্যাধি থাকে। ভারতীয় প্রাচীন রীতি নীতি অনুযায়ী এই রোগব্যাধি নির্মূলের এক অন্যতম উপায় হল যোগা। তাই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত যোগা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে শুক্রবার আন্তর্জাতিক যোগা দিবস উপলক্ষে যোগ প্রদর্শন করলেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে এভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যোগ প্রদর্শনের ফলে আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যোগের মাধ্যমে শরীর চর্চার বার্তা ফুটে উঠবে বলে মত কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

কলেজের এক ছাত্র জানান, সবসময় শুধুই পড়াশোনার মধ্যেই আবদ্ধ থাকলে হবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চায়ও মন দেওয়া ছাত্র জীবনে একান্ত প্রয়োজন। কলেজের কারিগরি বিশেষজ্ঞ মৌসম চৌধুরী বলেন, যোগা ভারতের এক প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্র। তাই বর্তমান সময়কালের সকলেরই দরকার এই চিকিৎসা শাস্ত্র অনুসরণ করা। তবে যোগা খেয়াল খুশি মতো নয়, যোগা নিয়মিত অভ‍্যাস করতে হবে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ উদয়ন মুখোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, হাওড়াতেও এই দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। সকালে বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর পক্ষ থেকে পঞ্চম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস সাড়ম্বরে পালিত হয়। স্কুল কলেজের ছাত্ররাও এই যোগায় অংশগ্রহণ করেন।

বেলুড় মঠের এই যোগা সম্পর্কে বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ মহারাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ক্রীড়া ও যোগা বিভাগ রয়েছে। তার মধ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কিভাবে ক্রীড়াকে এবং তার সঙ্গে যোগকে যুক্ত করা যায় তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা স্নাতকোত্তর স্তরে যোগা শুরু করেছি। সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কি করে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব কিভাবে হয় তার গবেষণা পদ্ধতি শুরু করেছি। কিভাবে যোগের মাধ্যমে মানুষের দেহ মন সর্বাঙ্গসুন্দর হয় তার প্রচেষ্টা আমরা করছি।