সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘মা কি তোর একার, মা সবার’। বিখ্যাত বাংলা ছবির ডায়লগ। ঠিক অনেকটা এমনভাবেই নর্দমা পরিস্কারের দায়িত্ব কার? তা নিয়েই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব-এর অভিযোগ। নর্দমা, তাও আবর্জনায় ভরা। তা নিয়েই তৃনমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। এমনই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্যতম সমস্যার কারণ ছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, এমনটাই মত অনেকের। নির্বাচনে খারাপ ফল হবার পর নড়েচড়ে বসে তৃণমূল। এখন দল অনেকটাই একজোট হয়েছে। ফল মিলেছে সদ্য উপ নির্বাচনে। এর মাঝেই ফের প্রকাশ্যে দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

 পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর পৌরসভার দেবলপুর ৫ নং ওয়ার্ড এর নর্দমার বেহাল অবস্থা। বেশ কিছু দিন ধরে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এমন অভিযোগই উঠে আসছিল এলাকার মানুষের তরফে। বারংবার অভিযোগের পরেও কোনও কাজ হয়নি। নর্দমা পরিস্কারের দাবিতে এদিন একত্রিত হন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, ‘বারবার বলা হয়েছে এলাকার নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ায় মশা বাড়ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তারপরেও কেউ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। বারবার এলাকার কাউন্সিলরকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও কোথায় কান দেওয়া হয়নি।’

তাই শুক্রবার সকালে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে নিজেরাই নর্দমা পরিষ্কার করতে এগিয়ে আসেন। আর এটাই হয়ে দাঁড়ায় গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণ। এলাকার মানুষ পথে নেমে নিজেরা নর্দমা পরিষ্কার করছেন এই খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার। জনতা নর্দমার জল ঠেলছেন এমন দৃশ্য দেখা যায়। তবে এসবের পরেও নিজে না এসে নিজেরাই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর নাফিসা খাতুন তাঁর স্বামী আনিস রহমানকে ঘটনা দেখতে পাঠান।এতেই বারে ক্ষোভ। এর পরেই ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় প্রাক্তন কাউন্সিলর এসে ঘুরে যান। এতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে চলছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। নাফিসার অনুগামীদের দাবি এলাকার মানুষদের নর্দমা পরিষ্কার করার কাজ করিয়েছে প্রাক্তন কাউন্সিলর। ইচ্ছা করেই তিনি এই কাজ করেছেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে , স্থানীয়রা ক্যামেরার সামনেই ক্ষোভ উগড়ে দেন। এই রাস্তা দিয়ে স্কুল পড়ুয়া থেকে সকলের প্রতিদিন যাতায়াত। এর পরেও কোনও হেলদোল নেই কাউন্সিলর এর এমনি অভিযোগ স্থানীয়দের।

গোষ্ঠী কোন্দল না দেখা গেলেও অনেকটা একই অবস্থা হাওড়াতেও। বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে বোর্ড ভেঙে গিয়েছে এক বছর আগেই। হাওড়া সদরের তাই বিভিন্ন এলাকায় ময়লা জমছে রাস্তা খানাখন্দে ভরা। অভাব শুধু প্রতিবাদের।