তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ সব গোষ্ঠীকেই রান্নার সুযোগ দিতে হবে। এ নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের কোন্দলের জেরে প্রায় দু’মাস মিড ডে মিল বন্ধ রয়েছে বাঁকুড়ার সিমলাপালের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আন্দোলনরত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা স্কুলের মিড ডে মিল গোডাউনে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে এই মুহূর্তে স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ কমতে শুরু করেছে বলে খবর মিলছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই গ্রামের দু’টি স্কুলে এতো দিন একটি মাত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যারা মিড ডে মিল রান্না করতেন। তাদেরই রান্না করা খাবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫১ জন ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৯ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পরিবেশন করা হতো। কিন্তু গ্রামে আরো পাঁচটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। তারাও ঐ কাজ করতে ইচ্ছুক। স্কুল কর্ত্তৃপক্ষ বিষয়টি না মানায় বাকি পাঁচটি গোষ্ঠীর সদস্যারা তালা দিয়েছেন। এই অবস্থায় গত ৬ নভেম্বর শেষ বারের মতো মিড ডে মিল রান্না হয়েছিল বলে খবর।

আন্দোলনকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা তপতী লোহার, লক্ষীরাণী লোহাররা জানাচ্ছেন, একটি মাত্র স্বনির্ভর গোষ্ঠী দীর্ঘদিন স্কুলে মিড ডে মিল রান্না করছে। আমরাও রান্না করার দাবী জানালে তা মানা হয়নি। বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসন সবাইকে জানালেও কোন কাজ না হওয়ায় তারা তালা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই মুহূর্তে তারা চাইছেন কোন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে নয়, পর্যায়ক্রমে ছ’টি গোষ্ঠীকেই রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হোক। মিড ডে মিল বন্ধ থাকলেও স্কুল খোলা রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

গ্রামবাসী সত্যরঞ্জন বিশ্বাসও বলেন,স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের মিড ডে মিল রান্না করা নিয়ে সমস্যার জেরে প্রায় দু’মাস তা বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে সিমলাপাল থানার পুলিশ গ্রামে এসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী সুনামী লোহারের কথায়, মিড ডে মিল দু’মাস বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন দুপুরে খাবার খেতে তাদের বাড়িতেই ছুটতে হয় বলে সে জানিয়েছে।

বাঁশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিঠুন চক্রবর্ত্তী মিড ডে মিল বন্ধের কথা স্বীকার করে বলেন, এই মুহূর্তে নতুন করে কোন স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে রান্না করার সুযোগ দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশ নেই। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত উদ্যোগী হলেও ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে নতুন কোন গোষ্ঠীকে এই কাজে যুক্ত করা যায়নি। তিনি আরো বলেন,আমরা মিড ডে মিল চালু করতে চাইলেও প্রশাসনিক উদ্যোগ সেভাবে নেই। এই মিড ডে মিল বন্ধ থাকার কারণে ৫১ জন ছাত্র ছাত্রীর মাত্র ১০ জন স্কুলে আসছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক আসিফ ইকবালকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি ব্লক, মহকুমা থেকে জেলাপ্রশাসন সবাইকে জানানো হয়েছে। কিন্তু জেলাশাসকের এক নির্দেশানুষারে এই মুহূর্তে নতুন কোন গোষ্ঠীকে ঐ কাজে নিয়োগ করা যাবেনা। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অন্য গোষ্ঠীর সদস্যারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় মিড ডে মিল চালু করা যায়নি বলেই তিনি জানিয়েছেন।

সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারী এবিষয়ে বলেন, আমরা পাশের একটি স্কুল থেকে রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, তাতেও কাজ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসা হয়েছে। তবে খুব দ্রুত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।