সুজয় পাল, কলকাতা: সারদা, রোজভ্যালি কাণ্ডের পর এরাজ্যে বিভিন্ন বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার কারবার কি বন্ধ হয়েছে? উত্তরটা এক কথায় ‘না’৷ কারও অভিযোগ নয়, তদন্তে নেমে এমনটাই জানাচ্ছে খোদ কলকাতা পুলিশ৷

লালবাজার সূত্রের খবর, পদ্ধতি বদলে একাধিক অর্থ লগ্নি সংস্থা সাধারণ আমানতকারীদের সঙ্গে প্রতারণার ধারা অব্যহত রেখেছেন৷ আর তা বন্ধ করতে দেরিতে হলেও রাজ্য পুলিশের নবগঠিত ‘ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেস’ জনসমক্ষে নিয়ে এলো একটি ওয়েবসাইট৷ www.wbdeo.com এই ওয়েবসাইটে লগ ইন করে সংশ্লিষ্ট অর্থ লগ্নি সংস্থার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আপলোড করলেই জানতে পারবেন, প্রতারকের পাল্লায় পড়েছেন নাকি ঠিকই সংস্থায় লগ্নি করেছেন৷

আরও পড়ুন: চিটফান্ড অভিযোগে মুকুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

শুক্রবার ৫নম্বর কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটে সংস্থার অফিসে এই নয়া ওয়েব সাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যসচিব মলয় দে৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ করপুরকায়স্থ ও স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্য৷ মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘প্রতারণা রুখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ৷ এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে রাজ্যের বেআইনি অর্থলগ্নির ক্ষেত্রে লাগাম পড়ানো সম্ভব হবে৷’’

কীভাবে ‘পদ্ধতি’ বদলে নতুন করে প্রতারণা চক্র গজিয়ে উঠছে? লালবাজারের কর্তারা জানাচ্ছেন, সারদা, রোজভ্যালির মতো বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থাগুলি অতিরিক্ত ইন্টারেস্টের লোভ দেখিয়ে বাজার থেকে অর্থ তুলতো৷ আর এখন বিভিন্ন বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থা টাকার বিনিময়ে পরিষেবার টোপ দিচ্ছে৷ এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘একটু ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবেন- বহু জুয়েলারি সংস্থা ১২ মাসের সোনার টাকা দিলে ১৩ মাসের ইনস্টলমেন্টের টাকা তাঁরা ফ্রিতে দেবেন বলে প্রচার করছে৷ অনেকেই সেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন৷ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ের পরেও সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না৷ একইভাবে অন্যান্য পরিষেবার টোপ দিয়েও বহু অর্থ লগ্নি সংস্থা বাজার থেকে টাকা তুলছে৷’’

আরও পড়ুন: গ্রাম থেকে ১৫০ কোটি হাতিয়ে চম্পট চিটফান্ড কর্তার

এই প্রবণতায় লাগাম পড়াতে আসরে নেমেছেন রাজ্য পুলিশের নবগঠিত ‘ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেস’৷ প্রসঙ্গত, সারদা, রোজভ্যালি কাণ্ডের পরই বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে চটজলদি ব্যবস্থা গ্রহণে ২০১৫ সালে ‘ওয়েস্টবেঙ্গল প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটারর্স ই-ফিনানসিয়াল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট’ (ডব্লুল বি পি আই টিএস ই) চালু করা হয়৷ পরের দু’বছর এই আইনে আরও সংশোধন আনা হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রের খবর, এই নয়া আইনের মাধ্যমে নবগঠিত ‘ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্সেস’ প্রতারক সংস্থার বিরুদ্ধে শুধু ব্যবস্থা গ্রহণই নয়, চাইলে অভিযুক্ত সংস্থার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সম্পত্তি নিলাম করে প্রতারকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবেন৷

এদিন সংস্থার তরফে ওয়েবসাইটটি প্রকাশের পর পুলিশের কর্তারা জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি অর্থ লগ্নি সংস্থা এই ওয়েব সাইটে নিজেদের যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য থাকবেন৷ শুধু তথ্য লিপিবদ্ধ করায় নয়, প্রতি তিন মাস অন্তর নিজেদের আয়, ব্যয় সংক্রান্ত যাবতীয় হিসেবও এখানে দিতে বাধ্য থাকবেন৷ যারা এই ওয়েব সাইটে নিজেদের তথ্য আপলোড করবেন না, অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবেন পুলিশ কর্তারা৷ এর ফলে বাজার থেকে এক খাতে অর্থ তুলে অন্য খাতে ব্যয় করার প্রবণতাও বন্ধ করা যাবে বলে মনে করছেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প