প্রতীকী ছবি

পূজা মণ্ডল, কলকাতা : জঙ্গি হামলার হুমকি দূরে সরিয়ে ভগবান বুদ্ধের আরাধনায় মাতলেন বৌদ্ধরা। বৌদ্ধ পূর্ণিমার পূর্ণালোকে নিজেদের স্নাত করলেন বৌদ্ধ পূজারীরা। বুদ্ধদেবের জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যের সর্বত্রই চলল আরাধনা। কলকাতার টালিগঞ্জ সম্বোধি বিহার মঠ থেকে শিলিগুড়ির বুদ্ধ ভারতী সমস্ত মঠেই ছিল ভক্ত সমাগম৷

রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫০০ এরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির আছে। গত ১৬ থেকে আজ ১৮ মে বুদ্ধ পূর্ণিমার পুণ্য তিথি উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পালন করা হচ্ছে বুদ্ধ জয়ন্তী। বৌদ্ধ সম্প্রদায় তো বটেই সেই সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও যোগদান করে চলেছেন বুদ্ধ উৎসবে।

টালিগঞ্জ সম্বোধি বিহার মঠের দায়িত্ব প্রাপ্ত ড. অরুনজ্যোতি ভিক্ষু বলেন, “ভগবান বুদ্ধ অহিংসার পূজারী। হিংসা দিয়ে কিছু জয় করা যায় না। তাই সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে আমরা গত তিন দিন ধরে ওনার জন্ম শুভক্ষণ উপলক্ষে পুজো করে চলেছি। আজ ১৮ তারিখ হয়ে গেল, বেলা গড়িয়ে গেল কিন্তু ভগবান বুদ্ধের কৃপায় এখনও আমরা সুস্থ-জীবিত। সকলের মঙ্গল হোক। সকলে ভালো থাকুন।”

বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। হামলার হুমকি আগে থেকে মেলায় নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন রাজ্যের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সেইমতো সমস্ত মঠেই নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয় রাজ্য প্রশাসনের তরফে৷ কিন্তু আশঙ্কা তো একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না! মনের গভীরে কোথাও অজান্তেই জায়গা করে নেয় ভয়-আশঙ্কা। সেই ভয়কেই মন থেকে দূরে একপাশে সরিয়ে রেখে ৩ দিন ধরে জন্মজয়ন্তী তিথিতে পূজিত হলেন ভগবান বুদ্ধ।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ মিলিয়ে এক ত্রিস্মৃতি বিজড়িত দিন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। বৈশাখী পূর্ণিমাও বলা হয় এই দিনটিকে। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এই দিনটিকে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ বলা হয়।

নিজেদের ওপর হামলার হুমকি রয়েছে। সুপ্ত অবস্থায় মনের কোনে জমে রয়েছে ভয়। তবুও সবকিছু উপেক্ষা করে অমোঘ শান্তিতে বিশ্বাসী বৌদ্ধরা। ভালো থাকা, শান্তিতে থাকার শুভকামনা করার সঙ্গে সঙ্গেই অশান্তির বার্তা দিয়ে চলেছেন সকলকে।