নয়াদিল্লি: প্রত্যেকদিন বহু মানুষের চিকিৎসা হয় এই ট্রেনে। উপকৃত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসার আলো পৌঁছয়নি, সেখানেই যেন দেবদূতের মত হাজির হয় ভারতের এই ‘লাইফলাইন এক্সপ্রেস’৷ প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে সার্জারি সবই হয় ট্রেনের অন্দরে।

ভারতের যেসব অঞ্চলে ঊন্নয়ন এখনও সঠিকভাবে হয়নি৷ সেই সব জায়গার মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই ট্রেন চালু করা হয়েছিল৷ বিশ্বে প্রথম ভারতই এরকম একটি ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নেয়। এই ট্রেনে রয়েছে চিকিৎসার সমস্ত উপকরণ, রয়েছে ডাক্তার৷ চলন্ত ট্রেনেই এই ধরনের ব্যবস্থা৷

ট্রেনটির মূল লক্ষ্য হল দরিদ্র মানুষদের পাশে থাকা, সাহায্য করা৷ ট্রেনটিতে রয়েছে সাতটি কোচ৷ ‘লাইফলাইন এক্সপ্রেস’ ১৯৯১ সালে একটি নন প্রফিট গ্রুপের উদ্যোগে প্রথম চালু হয়৷ এটি প্রায় ২৭ বছর ধরে জনগণের সেবায় নিয়োজিত৷

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে এটি পরিষেবা দিয়ে থাকে৷ বহু মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রেনটি৷ কমপক্ষে ১.২ মিলিয়ন ভারতবাসীকে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন বললেও খুব একটা ভুল বলা হবে না৷ সবথেকে বড় বিষয় হল এখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে পারেন বিনামূল্যে৷

আকাশী রঙের এই ট্রেনটিকে সাজানো হয়েছে মেহগনি ফুলের মালা দিয়ে৷ চিকিৎসার দিক থেকে ট্রেনটির পরিষেবা কোনও হাসপাতালের থেকেও কম নয়৷ এখানে ২০ জন প্যারামেডিক স্টাফ আছেন৷ এছাড়া, কাছাকাছি হাসপাতালের ডক্টররা থাকেন রোগীদের চিকিৎসার জন্য৷ রোগীদের হাতে এক মাস সময় থাকে৷ যেখানে চোখের ছানি থেকে শুরু করে ক্যান্সার এবং অস্থির চিকিৎসাও চলে৷

‘লাইফলাইন এক্সপ্রেস’ এর উদ্দেশ্য ভারতের সরকারি চিকিৎসালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা নয়৷ বরং, এটির সঙ্গে সহযোগিতা করা৷ এখানে চিকিৎসক থেকে শুরু করে মেডিক্যাল ছাত্রদেরকেও সুযোগ দেওয়া হয় নিজেদের ক্ষমতা পরীক্ষা করার৷ কর্মচারীদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য এখানে যথেষ্ট সুবিধা রয়েছে৷ একটি বড় স্ক্রিনের টিভিও দেখা যাবে এই এক্সপ্রেসে৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও