ছবি- প্রতীকী

কার্তিক সাহা , সন্দেশখালি: দিল্লির নির্ভয়াকাণ্ডের ছায়া উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালিতে। গণধর্ষণের পর প্রৌঢ়ার যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে নির্মম অত্যাচার। টানা ২৫ দিনের যমে-মানুষে টানাটানির পর ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হল প্রৌঢ়ার৷ চার অভিযুক্তের মধ্যে রাজেশ্বর মাইতি নামে একজন গ্রেফতার হলেও, বাকিরা এখনও অধরা। পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের।

২০১২-র ডিসেম্বরে নির্ভয়াকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে গর্জে উঠেছিল দেশ। ধর্ষকদের শাস্তি দিতে কঠোর হয়েছে আইন। তবুও বদলাচ্ছে না সামাজিক অবক্ষয়ের ছবিটা। সাড়ে চার বছর পর দিল্লির ঘটনার স্মৃতি ফেরাল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। এবার কয়েকজন যুবকের বিকৃত লালসার শিকার ৬১ বছরের এক প্রৌঢ়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালিতে একটি ভাতের হোটেল চালাতেন ওই প্রৌঢ়া। গত ৩ জুলাই রাতে, তাঁর দোকানের কাছেই মদ্যপান করছিল স্থানীয় চার যুবক। প্রতিবাদ করায় বচসা বাঁধে। তখনকার মত গন্ডগোল মিটিয়েদেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় প্রৌঢ়ার ওপর চড়াও হয় ওই চারজন। প্রৌঢ়াকে মুখ চেপে একটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বেল্ট দিয়ে প্রৌঢ়ার চোখ বেঁধে চলে ধর্ষণ। তার মধ্যেই রাজেশ্বর মাইতি নামে স্থানীয় এক যুবককে চিনতে পারেন নির্যাতিতা। তবে, ধর্ষণেই থামেনি চার যুবক। প্রৌঢ়ার যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে ঘোরানো হয়। যার জেরে ছিঁড়ে যায় নাড়ি। এরপরই গা ঢাকা দেয় দুষ্কৃতিরা। দীর্ঘক্ষণ পর অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ির লোকজন ওই প্রৌঢ়াকে উদ্ধার করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নির্যাতিতাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন তাঁকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই সাতাশ দিন লড়াই করার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় নির্যাতিতাকে। মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নির্যাতিতা, ঘটনার কথা জানিয়ে গিয়েছেন। এই ঘটনার পর গত ৮ জুলাই অন্যতম অভিযুক্ত রাজ্যেশ্বর মাইতি ওরফে ভোলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি সন্দেশখালির ৭ নম্বর পাত্রপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন বৃদ্ধা।

পরিজনদের দাবি, তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই উদাসীন পুলিশ। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতেই খুনের চেষ্টা, গুরুতর আঘাত-সহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন মৃতার ছেলে। পাড়ায় অসামাজিক কাজ ও মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় প্রৌঢ়ার এই নির্মম পরিণতি বলে অভিযোগ পরিবার ও প্রতিবেশীদের।