স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: বর্তমান যুগে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ না হয়ে উঠলে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগানো অসম্ভব৷ তাই স্কুল পর্যায় থেকেই পড়ুয়াদের উদ্যোগী গড়তে তৎপর হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্ল্যাটফর্ম ইয়ং বাংলা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। মঙ্গলবার তাঁদের উদ্যোগে দেশব্যাপী জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিংয়ের জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল৷ তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল বিষয়বস্তু৷ জানা গিয়েছে, প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রায় ১৮০ টি স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছিল৷

উদ্যোক্তাদের যৌথ প্রয়াসে অনুষ্টিত হয় প্রতিযোগিতাটি৷ জাতীয় শিশু-কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার জন্য বিশেষভাবে ফেসবুক পেজ তৈরি করেছিলেব উদ্যোক্তারা৷ ফি-বারের মতো এবারেও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও, এবারে প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল একটি বিশেষ আকর্ষণ৷ এই প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরও এই প্রতিযোগিতার আওতায় আনা হয়েছে।

ইয়ং বাংলার একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এপ্রিলে শুরু হওয়া ৬৪ টি জেলায় ১৮০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার প্রতিযোগিতার পাইথন বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করেব আয়োজকরা। এর আগে রবিবার স্ক্র্যাচ প্রতিযোগিতার ফলাফল জানানো হয়। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর জন্য ‘স্ক্র্যাচ’ এবং ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পাইথন’ রাখা হয়। এই প্রতিযোগিতায় মূলত হাইস্কুল প্রোগ্রামিং বিভাগে ‘সি’ এবং ‘সি++’ ভিত্তিক কিছু সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়৷

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় মোট ৬৪ টি জেলা থেকে প্রাথমিক ভাবে ৫৪০০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিল৷ এর মধ্যে স্ক্র্যাচ ও পাইথন বিভাগে ২হাজার ৭০০জন করে পড়ুয়া অংশ নিয়েছিল৷ প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং বিভাগে প্রতি তিন জন পড়ুয়া মিলে একটি দল গঠন করতে হয়। অন্যদিকে, পাইথন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একক ভাবেই অংশগ্রহণ করে।

তবে এই প্রতিযোগিতার আগে ডিজিটাল ল্যাবে পাইথন ও স্ক্র্যাচের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। যাতে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কোনও শিক্ষার্থী সমস্যার মধ্যে না পড়ে৷ তবে সেক্ষেত্রেও রয়েছে হাজারো নিয়ম-কানুন৷ শুধু শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, সঙ্গে প্রশিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে৷ প্রশিক্ষণ কর্মশালা প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি তথা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘‘সরকার আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করবে। পড়ুয়াদের তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ৷’’