স্টাফ রিপোর্টার, মালদা: জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল আবার প্রকাশ্যে এল মালদায়। আজ দুপুরে মালদা পলিটেকনিক কলেজে ছাত্র বিক্ষোভের পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

অভিযোগ, মালদা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসের অনুগামী অভিজ্ঞান জোয়ারদারের বিরুদ্ধে। অভিজ্ঞান গত বছরই পাশ করার পর কলেজের ছাত্র নেই। কিন্তু সে কলেজে এখনও আসা যাওয়া চলছে। পাশাপাশি জুনিয়ার ছাত্রদের মারধর এবং তোলা আদায়েরও অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ দুপুরে মালদার মানিকচক রাজ্য সড়ক অবরোধ করে ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ তোলে কোনও বহিরাগত ঢুকবে না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অম্লান ভাদুরির অনুগামীদের কলেজে প্রবেশ করতে। যার নেতৃত্বে ছিল সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ ঘোষ। এই প্রসেনজিৎ ঘোষ আগামী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আগামী দিনের জেলা সভাপতি হচ্ছেন বলেও দাবি করছেন। ছাত্রদের বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে আন্দোলন। আর পরক্ষণেই দেখা গেল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অনুগামীদের কলেজে প্রবেশ।

এই চিত্র থেকে পরিষ্কার গোষ্ঠী কোন্দলেই মালদা পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রদের আন্দোলন। তবে চিত্র পরিষ্কার যে ক্ষমতা কার হাতে থাকবে তাঁর লড়াই জেলায় চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে গোষ্ঠী কোন্দল মিটিয়ে চলতে বলে গেলেও কোনও কর্ণপাত করতে রাজী নয় জেলা নেতৃত্ব। তুমুল ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল মালদা পলিটেকনিক। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ, অবরোধ আন্দোলনে নামে মালদা পলিটেকনিকের ছাত্ররা। অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই একদল বহিরাগত কলেজে ঢুকে জুনিয়ারদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। জোর করে শাসক দলের সংগঠনের নাম করে টাকা আদায় করা হচ্ছে ছাত্রদের কাছ থেকে। প্রতিবাদ করলেই চলছে শারীরিক ও মানসিক নানা নির্যাতন। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও ফল না হওয়ায় আজ ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রথমে কলেজে এরপর মালদা মানিকচক রাজ্য সড়কে বসে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অবরোধের ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। বেগতিক দেখে আসরে নামে কলেজ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের পর ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন কলেজের অফিসার ইন চার্জ। ছাত্রদের দাবি মতো অভিযুক্ত বহিরাগতদের এরপর আর কলেজে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। যদিও ক্যামেরার সামনে পুরো বিষয়টি ছোট গোলমাল বলে এড়িয়ে যান তিনি। এমন কি বহিরাগতদের প্রবেশের সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলেও ক্যামেরার সামনে দাবি করেন কলেজের অফিসার ইন চার্জ। যদিও ক্ষুব্ধ ছাত্ররা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে মালদহ পলিটেকনিক কলেজে।