স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: গোষ্ঠী কোন্দলে বন্ধ হয়ে গেল ফুটবল প্রতিযোগিতাও৷ না, এবার আর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়৷ রাজ্য জুড়ে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল এবং সেই কারণে হিংসার ঘটনা এখন স্বাভাবিক ব্যপার৷। গত কয়েক বছরে এই চিত্রটা দেখে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে রাজ্যবাসী। কিন্তু, ক্ষমতায় না থেকেও বিরোধী সিপিএমের অন্দরেও জ্বলছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আগুন৷ আর এর জেরেই উদ্যোগ নিয়েও বন্ধ হয়ে গেল জনসংযোগ কর্মসূচীর ফুটবল প্রতিযোগিতা।

উত্তর ২৪ পরগনার গাড়ুলিয়া এলাকায় গত ২২ এপ্রিল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠন। প্রয়াত ছাত্র নেতা সুদীপ্ত গুপ্তের স্মরণে ইছাপুরের অশোকনগরে ওই খেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর কোন্দলের জেরে বন্ধ হয়ে গেল প্রতিযোগিতার আসর। প্রতিকূল পরিস্থিতির ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কর্মীদের কাছে সাফাই দেওয়া হয়, “এখন আমরা(সিপিএম)এই ধরণের কর্মসূচী নিলে শাসক তৃণমূলের লোকেরা হাঙ্গামা বাধাতে পারে।”

সূত্রের খবর, ‘ছাত্র নেতা সুদীপ্ত গুপ্তের স্মরণে ফুটবল প্রতিযোগিতা’ এই বিষয়টিতে আপত্তি ছিল স্থানীয় এক সিপিএম নেতার। সুদীপ্ত গুপ্তের নাম সরিয়ে সেখানে ‘এসএফআই-ডিওয়াইএফআই’-এর উদ্যোগে ফুটবল প্রতিযোগিতা করার পক্ষে সাওয়াল করেন তিনি। সুদীপ্ত গুপ্তের নামেই ওই প্রতিযোগিতা করতে বদ্ধ পরিকর ছিল স্থানীয় এসএফআই নেতৃত্ব। অভিযোগ, দলের উচ্চতর নেতৃত্বের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হয় এই প্রতিযোগিতা স্থগিত রাখার জন্য। আর এই সমগ্র ঘটনার পিছনে ওই নেতার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উদ্যোক্তারা। যিনি সুদীপ্ত গুপ্তের নামে ফুটবল প্রতিযোগিতার বিরোধী ছিলেন।

ফুটবল প্রতিযোগিতা নিয়ে বেশ উত্তেজিত ছিলেন উদ্যোক্তারা। প্রতিযোগিতার জন্য অনেকের থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেছিলেন উদ্যোক্তারা। তীরে এসে তরী ডোবায় দলীয় নেতৃত্বের উপরেই ক্ষুব্ধ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা সহ স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতৃত্ব। যদিও গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি। তাঁর কথায়, “ফুটবল প্রতিযোগিতা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরে আরও বড় করে করা হবে।” তৃণমূল নেতাদের চোখ রাঙানির বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি। বেশ বড় আকারে আয়োজনের উদ্দেশ্যেই আপাতত ফুটবল প্রতিযোগিতা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গার্গী চ্যাটার্জি। নেত্রী গার্গীর এই বক্তব্য শুনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় উদ্যোক্তা জানান পুরোটাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল৷

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে এসএফআই সভানেত্রী মধুজা সেন রায়কে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। রাজ্যে একসময় ক্ষমতায় থাকলেও এখন ক্ষয়িষ্ণু শক্তি সিপিএম। বামেদের সব শক্তি এখন ঘাসফুল ও রামের দখলে যাচ্ছে বলেই রাজনৈতিক মত। এমন অবস্থায় নিজেদেরই অন্তর্দ্বন্দ্বে বড় প্রশ্নের মুখে জেলার বাম সংগঠন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।