প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: গাছের ডাল ভেঙে পড়ল এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মাথায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে। আহত ছাত্রীর নাম শবনম সুলতানা। প্রথম দিকে একটু ঘাবড়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পেরে আশ্বস্ত হয় শবনম।

জানা গিয়েছে, গাছের ডাল পড়ে কপাল ফেটে ব্যাপক রক্তপাত হয়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আহত শবনমকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের বাবুপাড়া এলাকার একটি নার্সিংহোমে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে৷

শবনমের মা আঞ্জুমান বেগম ও বাবার নাম আবু রায়হান। মেয়ের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন। জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলের ছাত্রী শবনম। তাদের বাড়ি জলপাইগুড়ির কাদোবাড়ি এলাকায়। শবনম জানায়, তার পরীক্ষার আসন পড়েছিল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে। এদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার সময় এই ঘটনাটি ঘটে। কলা বিভাগের ছাত্রী শবনমের ভূগোল পরীক্ষা ছিল এদিন।

ছাত্রীর বাবা আবু রায়হান জানান, মেয়েকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দিয়ে আমরা রাস্তায় অপেক্ষা করছিলাম। আচমকা এই দুর্ঘটনায় প্রথমে ঘাবড়ে যাই। স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। এদিন তাঁদের সহযোগিতাতেই মেয়ে হাসপাতালের বিছানায় বসে পরীক্ষা দিতে পারল। “

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সন্টু কর্মকার জানান, আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ওই ছাত্রীর পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ৪০ মিনিট সময় দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুদীপ্তা শিকদার বলেন, আমরা এই বিষয়ে খবর পেয়েই আমাদের শিক্ষিকাদের হাসপাতালে পাঠাই। ওই ছাত্রীর পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

পরীক্ষা শেষে এদিন শবনাম সুলতানা বলেন, পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আশা করছি ৯০ শতাংশ নম্বর পাবো। তবে দুঃখ একটাই পরীক্ষার শেষ দিনে বান্ধবীদের সঙ্গে আবির খেলতে পারলাম না।