মল্লারপুর: রাস্তা থেকে বাড়ির কার্নিশ হনুমানদের অবাধ বিচরণ সাধারণ ব্যাপার মল্লারপুরবাসীর কাছে। কিন্তু সপ্তাহ শেষের শনিবার অন্যরকম ঘটনার সাক্ষী রইলেন এলাকার বাসিন্দারা। শাখামৃগদের এই দাপাদাপির ফলে
তাঁদের মধ্যে মারপিটও আকছারই ঘটত। শনিবার সকাল ন’টা নাগাদ দু’টি পূর্ণবয়স্ক হনুমানের মধ্যে মল্লযুদ্ধ দেখতে ভিড় জমে যায় মল্লারপুর স্টেশন চত্বরে।

দুই হনুমানের মারামারি দেখে আমোদিত হয়ে হাততালিও দিতে থাকেন বেশ কিছু নৃশংস মানুষ। প্রবল মারামারিতে জখম হয়ে দুটি হনুমানই। প্রথম হনুমানটি রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে গেলেও অন্যটি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। বিভিন্ন ক্ষতস্থান থেকে অঝোরে রক্ত ঝরতেও দেখা যায় হনুমানটির।

ভিড়ে ঠাসা স্টেশনের রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাওয়া একটি টোটোতে সওয়ার হয় জখম হনুমানটি। করুন দৃষ্টিতে সহযাত্রীদের পাশে বসে গায়ে হাত দিয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করে যে সে আক্রমণ করবে না। টোটো করে খানিক পথ যাওয়ার পর পঞ্চায়েত ভবনের সামনে নেমে পড়ে হনুমানটি। পাশে এক ওষুধের দোকানের সামনে বেঞ্চে গিয়ে বসে সে।

ওই দোকানের মালিক আনাজুল আজিম বলেন, ‘দোকানে তখন ভিড় ছিল, তাই হনুমানটি সামনের বেঞ্চে গিয়ে বসেছিল। ভিড় কমতে ও একলাফে কাউন্টার টেবিলের উপর উঠে আসে। ক্ষতস্থানে হাত দিয়ে এমন করছিল মনে হচ্চিল যে ও চিকিৎসা চাইছে।’ ক্ষতস্থানে মলম ও ব্যান্ডেজ বেঁধে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। সেই সময়ে ওষুধ কিনতে এসেছিলেন শক্তিপদ মিস্ত্রি নামে স্থানীয় এক যুবক। তিনিও হনুমানটির শুশ্রূষায় হাত লাগান। ব্যান্ডেজ বাঁধার পরেও ক্ষতস্থানে বারংবার হাত দিয়ে দেখাচ্ছিল হনুমানটি। এই দেখে তাঁকে একটি কাপে করে জল এবং ব্যথার কমার ওষুধও দেন আনাজুল। কিছুক্ষণ দোকানে বসে দেখে আনাজুলের কাঁধে হাত রেখে ঝুপ করে দোকান থেকে নেমে স্টেশনগামী একটি টোটোয় উঠে পড়ে হনুমানটি।

মল্লারপুরের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় বছর আড়াই আগে এরকমই এক শনিবারের সকালে হুগলির চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পুরষ বিভাগে কর্তব্যরত নার্সদের চমকে দিয়েছিল একটি হনুমান। ডান পায়ে রক্ত ঝরছিল। নার্সদের বারবার ক্ষতস্থান দেখিয়ে হাত নেড়ে কাকুতি মিনতি করে ডাকতে থাকে হনুমানটি। অন্যরা ভয় পেলেও একজন নার্স এগিয়ে এসে হনুমানটির চিকিৎসা করেন। ব্যান্ডেজ করে দেন পায়ে। তারপরে তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে শুশ্রূষা হয়েছে বুঝতে পেরে চলে যায় হনুমানটি। এই ঘটনাগুলি প্রসঙ্গে শান্তিনিকেতনের বন্যপ্রাণী গবেষক ঈশানচন্দ্র মিশ্র বলেন, ‘‘যে সব প্রাণী মানুষের কাছাকাছি থাকে তাদের কেউ কেউ মানুষের আচরণ, কার্যকলাপ অনুসরণ করে। হনুমান, বাঁদর বা কুকুরের অনুসরণের ক্ষমতা অনেক বেশি।’’