ম্যাঞ্চেস্টার: ২০১৫ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কোহলির শতরানের পাশাপাশি তাঁর ব্যাট থেকেও এসেছিল ৭৩ রানের মূল্যবান ইনিংস। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে হাইভোল্টেজ ভারত-পাক ম্যাচে অংশীদার হতে পারেননি চোটের কারণে। তাতে কী? একাদশে না থাকলেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দলের সঙ্গে থেকে সমানে সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়ে যাওয়ার কাজটা করে গেলেন শিখর ধাওয়ান।

বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুলে চোটের জন্য প্রাথমিকভাবে ছিটকে গিয়েছেন তিন ম্যাচের জন্য। তবে দলের সঙ্গে থেকেই সুস্থ হয়ে ফিরে আসার লড়াই চালাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘গব্বর’। ড্রেসিংরুমে বসে মাঠে নামতে না পারার যন্ত্রণা নিঃসন্দেহে কুড়ে-কুড়ে খাচ্ছিল তাঁকে। তাই ম্যাচ চলাকালীন মাঠে নামার যে সামান্য সুযোগটুকু ছিল, তা হাতছাড়া করলেন না ধাওয়ান। বিরতিতে ইয়েলো আপার পরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সতীর্থদের জন্য পানীয় নিয়ে মাঠে প্রবেশ করলেন ‘গব্বর’। একইসঙ্গে হয়তো ড্রেসিংরুম থেকে ব্যাটসম্যানদের জন্য গুরুত্বপূর্ন বার্তাবাহকের কাজটাও সারলেন অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের শতরানকারী।

শুধু তাই নয়, এদিন ওল্ড ট্র্যাফর্ডে বিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গেও খোশমেজাজেও দেখা যায় ওপেনিং ব্যাটসম্যানকে। শোয়েব মালিকের সঙ্গে ধাওয়ানের হাসিঠাট্টার মুহূর্তও ক্যামেরাবন্দি হয়। ১০-১২ দিন সাইডলাইনে থাকার পর বোর্ডের মেডিক্যাল টিমের তরফে ধাওয়ানের চোট পরীক্ষা করা হবে। আপাতত দলের ফিজিও প্যাট্রিক ফারহার্টের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন আইসিসি’র ইভেন্টে ভারতের জার্সি গায়ে ৬টি শতরানের মালিক। দিনদুয়েক আগে জিম সেশনেও সময় দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ইতিমধ্যেই ধাওয়ানের ‘কভার’ হিসেবে ইংল্যান্ড উড়ে গিয়েছেন ঋষভ পন্ত। পাক ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনও সারেন তিনি।

তবে ধাওয়ানের পরিবর্ত হিসেবে রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেনে নেমে রবিবার নিজেকে প্রমান করলেন কেএল রাহুল। একদিকে চালিয়ে খেলে ধ্রুপদী ইনিংসে দলের রান রেট ঊর্ধ্বমুখী রাখলেন ‘হিটম্যান’, তখন ধৈর্য্যশীল ইনিংসে রোহিতকে সাহারা জুগিয়ে গেলেন রাহুল। রবিবাসরীয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রাহুলের ৭৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়ে। শেষমেষ ওয়াহাব রিয়াজের ডেলিভারিতে বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে থামানো যায়নি রোহিতকে। ১১২ বলে ১৪০ রানের ধামাকেদার ইনিংস আসে রোহিতে ডেপুটির ব্যাট থেকে।

অর্ধশতরান আসে অধিনায়ক কহলির ব্যাট থেকেও। পাশাপাশি ৫৭ রান পূর্ন করার সাথে সাথে সচিন তেন্ডুলকরকে টপকে দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেন কোহলি। মাস্টার ব্লাস্টারের ২৭৬ ইনিংসকে ছাপিয়ে মাত্র ২২২ ইনিংসেই এই এলিট ক্লাবের সদস্য হন বিরাট। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এদিন রেকর্ড ৩৩৬ রান খাড়া করে মেন ইন ব্লু। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোহলির শতরান, ধাওয়ানের অর্ধশতরানে ভর করে ৩০০ রান করেছিল টিম ইন্ডিয়া, যা এতদিন ছিল সর্বোচ্চ।