নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নিজামুদ্দিন মার্কাজ। তবলিগি জামাতের অনুষ্ঠানের পর থেকেই দেশে হু-হু করে বেড়ে গিয়েছে সংক্রমণ। ভাঙা হয়েছে ফরেন ফান্ডিং আইন, তাই এবার অর্গানাইজারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই (CBI)।

শুধু তাই নয় মওলানা সাদের কার্যকলাপও নজরে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক এই তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পূর্ণ তদন্তের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থিত কি না। এই তদন্তের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে অর্গানাইজারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কতটা সম্ভব।

সূত্রের খবর, অবৈধভাবে টাকা লেনদেনের মাধ্যমেই মার্চ মাসে নিজামুদ্দিন মার্কাজে তবলিগি জামাতের এই অনুষ্ঠান হয়েছিল। যদিও তাঁদের তরফে কোনও বিদেশি অনুদানের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

নিজামুদ্দিন মার্কাজে তবলিগি জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য চার্জশিট ফাইল করা হয়েছে ৮৩ জন বিদেশির বিরুদ্ধে। মোট ২০টি চার্জশিট পেশ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে।

মে মাসের শুরুর দিকে, দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তবলিগি জামাতের সঙ্গে যুক্ত ৭০০ বিদেশির কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে, সেখানে ছিল পাসপোর্টও। সব তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, এই সকল তবলিগি জামাত সদস্যরা মার্চ মাসে নিজামুদ্দিন মার্কাজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ট্যুরিস্ট ভীসা নিয়ে ভারতে এসে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। ওই ব্যাক্তিরা কাইরাগিশ্তান, উজবেকিস্তান, তানজানিয়া, সাঊথ আফ্রিকা, মায়ানমার এবং অন্যান্য দেশ থেকে এসেছিলেন। এদের মধ্যে অনেকে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসায় এতদিন কোয়ারেণ্টাইনে ছিলেন।

মে মাসের ৫ তারিখ, দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তবলিগি জামাতের প্রধান মওলানা সাদের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২০ জনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে যারা দিল্লির নিজামুদ্দিন মার্কাজে তবলিগি জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন অথবা এর ম্যানেজমেণ্টের অংশ ছিলেন।

মওলানা সাদের বিরুদ্ধে ১৮৯৭ সালের মহামারি আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। সোশ্যাল ডিসট্যানসিংয়ের নিয়ম ভেঙে জমায়েত করেছিলেন বহু বিদেশি।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ১৫০০০ বেশি করোনা সংক্রমণ সামনে এসেছে নিজামুদ্দিনের তবলিগি জামাতের অনুষ্ঠানের পরেই, যা একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য সংকট।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প