প্রতীতি ঘোষ,বারাকপুর: ফের অমানবিক ঘটনা। করোনা আবহে বিনা চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর শহরে। বারাকপুরে চিকিৎসা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে পথেই মৃত্যু হল দীপঙ্কর সিংহ রায় (৩০) নামে এক রোগীর।

বেশ কিছুদিন ধরেই নার্ভের রোগে ভুগছিলেন বছর ত্রিশের দীপঙ্কর সিংহ রায়। সম্প্রতি বারাকপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নার্ভের চিকিৎসা ও চলছিল তাঁর। কিন্তু হঠাৎ করে প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় চক কাঠালিয়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর সিংহ রায়ের।

এদিকে অবস্থার অবনতি হলে দীপঙ্কর বাবুকে আত্মীয়রা প্রথমে তাঁকে বাড়ির সামনে বারাকপুর মাতৃ সদন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু রোগী করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে, কোনরকম করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়াই এই অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীপঙ্কর বাবুকে ভর্তি নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মৃত দীপঙ্কর বাবুর আত্মীয়রা।

তাঁদের অভিযোগ, দীপঙ্কর বাবুর কোনও করোনা পরীক্ষা করা হয়নি, কারন দীপঙ্করের নার্ভের সমস্যা ছাড়া অন্য কিছু সমস্যা ছিল না । এমন কি দীপঙ্কর বাবুকে যে ডাক্তার দেখছিলেন তিনিও মাতৃ সদন হাসপাতালে কর্মীদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দীপঙ্কর বাবুকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা করবার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু মাতৃ সদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীপঙ্কর বাবুকে ফিরিয়ে দেয়। এরপর দীপঙ্কর বাবুর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে বারাকপুর বি এন বোস মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ও বেড নেই বলে রোগীকে একটা ইঞ্জেকশন ও অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। তখন দীপঙ্কর বাবুর আত্মীয়রা বুঝতে পারেন অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

এরপর বারাকপুরে সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দীপঙ্করের পরিবারের সদস্যরা । তখন রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় দীপঙ্কর বাবুর বাড়ির লোকেরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন, “আমাদের রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। আমাদের রোগীর সব রিপোর্ট ঠিক ছিল শুধু করোনা পরীক্ষা করা হয়নি কিন্তু ওনার করোনা ছিল না , বুকে প্রচন্ড কফ জমে যাওয়ার ফলে শ্বাস কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কোনও হাসপাতাল তার চিকিৎসা করেনি। এমন কি, ব্যারাকপুর বি এন বোস মহকুমা হাসপাতাল বেড নেই বলে একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে অন্য সরকারি হাসপাতালে এই রোগীকে রেফার করে দেয়। আর ওই ইঞ্জেকশনের পরেই আমাদের রোগী আরো ঝিমিয়ে পড়ে আর অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই মারা যায়।”

এই ঘটনা শুনে ব্যারাকপুরে পৌরপ্রশাসক উত্তম দাস জানান, “যেকোন মৃত্যুই দুঃখজনক । তবে ওই রোগী নিউরো পেসেন্ট ছিলেন আর ব্যারাকপুর মাতৃসদন হাসপাতালে নিউরো ডাক্তার ছিলেন না, আর ওটি একটি মেটার্নিটি হাসপাতাল তাহলে ওখানে কেনো নিয়ে যাওয়া হলো ওই রোগীটি কে? তবে বেসরকারি হাসপাতাল গুলিও কেন ভর্তি নিল না খতিয়ে দেখা হবে কারন আমরা সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালে দুটি করে বেড সব সময় এই ধরনের রোগীদের জন্য ফাঁকা রাখার নির্দেশ দিয়েছি । কিন্তু তা স্বত্বেও এমন ঘটনা কেন ঘটল তা খতিয়ে দেখছি আমরা। আমি এই ঘটনার খবর আগে জানতাম না, আমাকে জানানো হয়নি। কারুর মৃত্যুই মেনে নেওয়া যায় না। খুবই দুঃখজনক ঘটনা ।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও