নয়াদিল্লি:দেশের শিল্পোৎপাদনের দুরাবস্থা প্রকট হচ্ছে ৷ গত অগস্টে কলকারখানায় উৎপাদন ১.১% সংকুচিত হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও কমে গিয়েছে । সম্প্রতি সরকারি পরিসংখ্যান জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে শিল্পোৎপাদন কমে গিয়েছে ৪.৩%। যারফলে তা গত ৮ বছরে সর্বনিম্ন৷

দেখা গিয়েছে ২৩টি উৎপাদন ক্ষেত্রের মধ্যেই ১৭টিতেই উৎপাদন কমে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমতে দেখা গিয়েছে আটটি বুনিয়াদি শিল্পে৷ বিশেষত বিদ্যুৎ এবং খনি শিল্পে অবস্থা খুবই করুন।তার একটা বড় কারণ অবশ্য বর্ষা কারণ খনি এবং বিদ্যুৎ শিল্পে উৎপাদন কমেছে। কিন্তু, বাকি শিল্পক্ষেত্রগুলিতে উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ অবশ্য ক্রেতা চাহিদার অভাব।

এদিকে বিশেষজ্ঞ সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চ (এনসিএইআর)-এর করা সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের সাপেক্ষে জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে এ দেশে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির অর্থনীতি নিয়ে আশা-ভরসা অনেক কমে গিয়েছে। এই বিজনেস কনফিডেন্স ইনডেক্স (বিসিআই) জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ১৫.৩% কমে দাঁড়িয়েছে ১০৩.১ পয়েন্টে। গত বছর ওই ত্রৈমাসিকের তুলনায় কমেছে ২২.৫% ৷ তার প্রেক্ষিতে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এভাবে সূচক কমে যাওয়ার অর্থ হল গোটা অর্থনীতি জুড়েই সব ধরনের শিল্পক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস নিম্নমুখি৷

তাছাড়া, আগামী ছ’মাসে পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন এই সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩.৭% শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেখানে জুন মাসে এই অংকটা ছিল ৪১.১%৷ নতুন বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ছ’মাস আগের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনায় এখন অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে মনে করেন ৬৭.৫% উত্তরদাতা।
এমন পরিস্থিতিতে ডিসেম্বরে মাসে সুদের হার ফের কমাতে পারে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বলে মনে।

অবাক করে দিয়ে শেয়ার বাজারের সূচকের যতই বৃদ্ধি হোক না কেন দেশের আর্থিক বেহাল দশা নানা ভাবেই ফুটে উঠছে৷ শিল্পে মন্দা দশা প্রতিফলিত হচ্ছে এবার বিদ্যুতর চাহিদার ক্ষেত্রেও৷অক্টোবর মাসে বিদ্যুতের চাহিদা ভীষণ ভাবেই কমে যেতে দেখা গিয়েছে৷ চাহিদা এতটাই কমেছে যে গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। লক্ষ্য করা গিয়েছে, এই বছরের অক্টোবর মাসে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে চাহিদা কমেছে ১৩.২শতাংশ। সরকারি তথ্য থেকেই এমনটা জানা গিয়েছে৷