ইন্দোর: মানবিকতার নজির গড়লেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বেতমা গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামেই বাস রাজু বাইয়ের। সাতাশ বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে এই গ্রামেই বাস করছেন শহীদ মোহন সিংয়ের স্ত্রী রাজু বাই। কিন্তু এত দিন তিনি বাস করতেন কুঁড়ে ঘরে। মাথার উপর ছিল ভাঙা ছাদ। কিন্তু এবার থেকে তার থাকবার জায়গা হবে ঝকঝকে পাকা বাড়ি। না, কোন সরকারি সাহায্য পাননি তিনি। শহীদের স্ত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন খোদ বেতমা গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের উদ্যোগে ১১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে বৃদ্ধা মহিলার পাশে দাঁড়ান তাঁরা। কুঁড়ে ঘরের বদলে স্বাধীনতা দিবসে বৃদ্ধা রাজুর হাতে তাঁরা তুলে দেন নতুন বাড়ি।

দেশের অন্যান্য জায়গার মতই স্বাধীনতা দিবস পালন করেছেন ইন্দোরের বেতমা গ্রামের বাসিন্দারা। পতাকা উত্তোলন হয়েছে। আর পাঁচটা জায়গার মতই হয়েছে শহীদ স্মরণ। কিন্তু মানবিকতার এই নজিরই দেশের অন্যান্য জায়গার স্বাধীনতা দিবসের চেয়ে আলাদা করে দিল বেতমা গ্রামের স্বাধীনতা দিবস পালন অনুষ্ঠানকে। ১১ লাখের ঘর পেলেন শহীদের স্ত্রী। গ্রামের যুব সম্প্রদায়ের মানুষজন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন বৃদ্ধার পাশে।

সাতাশ বছর আগে ত্রিপুরায় শহীদ হয়েছিলেন জওয়ান মোহন সিং। এরপর ১৯৯২ সাল থেকে ইন্দোরের ওই গ্রামে একলা বাস করে চলেছেন ওই বৃদ্ধা মহিলা। তাঁর দৈন্য দশা দেখে উদ্যোগ নেন গ্রামের যুব সম্প্রদায়। ‘ওয়ান চেক ওয়ান সাইন’ নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেন তাঁরা। এই উদ্যোগেই তৈরি হয় রাজু বাইয়ের জন্য নতুন বাড়ি। স্বাধীনতা দিবস এবং রাখী বন্ধনের পুণ্যলগ্নে নতুন বাড়ির চাবি রাজুর হাতে তুলে দেন সকল গ্রামবাসী। এই সুখের মুহূর্ত অচিরেই ক্যামেরা বন্দী হয়ে যায়। নেট দুনিয়ায় যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

বাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়েছে ১০ লক্ষ টাকা। বাকি ১ লক্ষ টাকা রাজুর শহীদ স্বামীর মূর্তি বানাতে খরচ হয়েছে। গ্রামের প্রধান সড়কেই নির্মিত হয়েছে মূর্তিটি।