ওয়াশিংটন: জেরুজালেম নিয়ে যেসব দেশ আমেরিকার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, তাদের আর্থিক অনুদান কমানোরে হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতও আমেরিকার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে তার স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে যে সেব দেশ ভোট দেবে তাদের অর্থনৈতিক সাহায্য কমবে।

বুধবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘কোটি-কোটি ডলার আর্থিক সাহায্য নিচ্ছে, আর আমাদেরই বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে! কারা এ ভোট দেয় আমরা দেখছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিক। আমরাও প্রচুর অর্থ বাঁচাব। এতে আমাদের কিছু যায় আসে না।’

ট্রাম্পের আগে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি মঙ্গলবারই সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ভোট দিলে সদস্য দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একটি চিঠিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এ প্রস্তাবে কোন কোন দেশ ভোট দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট তার রিপোর্ট চেয়েছেন।

পরে এক টুইটে হ্যালি বলেন, “জাতিসংঘে আমাদেরকে সবসময় বেশিকিছু করতে বলা হয়। বেশি বেশি সাহায্য দিতে বলা হয়। সুতরাং, আমরা যখন দেশের মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের দূতাবাস সরানোর মতো কোনও সিদ্ধান্ত নেই, তখন যাদেরকে আমরা সাহায্য করেছি তারা আমাদেরই বিপক্ষে যাবে সেটি আশা করি না।”

চলতি মাসের গোড়ার দিকে জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী বলে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই ঘটনা ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে। আমেরিকার এহেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে বিভিন্ন দেশ। অনেক দেশে আবার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। বিতর্কিত এই বিষয়টিকে হস্তক্ষেপ করে রাষ্ট্রসংঘ। চরম সিদ্ধান্তের জন্য ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। যেখানে পরাস্ত হয়েছে আমেরিকার সিদ্ধান্ত। জয় হয়েছে প্যালেস্তাইনের।

রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলিকে প্যালেস্তাইনের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কার্যত হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও প্যালেস্তাইনের পক্ষেই ভোট দিয়েছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত এবং প্যালেস্তাইনের পারস্পরিক সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই সম্পর্ক বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, ভারত-মার্কিন সুসম্পর্কের বিষয়টিও কার অজানা নয়। গত এক দশকে বেশ উন্নত হয়েছে সেই সম্পর্ক। তবুও কেন আমেরিকার বিপক্ষে ভোট দিল ভারত? এই বিষয়ে সরকারিভাবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।