নয়াদিল্লি: কয়েকদিন আগেই অগ্নি-২ মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করেছে ডিআরডিও। এবার ওড়িশার উপকূল থেকে উড়ল আরও একটি মিসাইল। বুধবার সন্ধেয় অন্ধকার চিরে ছুটে গেল পৃথ্বী-২। ভারতের অস্ত্রাগারে থাকা একটি নিউক্লিয়ার মিসাইল এই পৃথ্বী।

এদিন একটি নয়ম দুটি পৃথ্বী-২ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দুটি টেস্টেই সফল হয়েছে। সবকটি প্যারামিটারেই সাফল্য এসেছে। চাঁদপুরের টেস্ট রেঞ্জ থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

এই মিসাইলের স্ট্রাইক রেঞ্জ ৩৫০ কিলোমিটার। সন্ধে ঠিক ৭ টা থেকে ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা হয় মিসাইলটি। লঞ্চ কমপ্লেক্স-৩ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় সেটি। এটি রুটিন ট্রায়াল বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

পৃথ্বী-২ একটি সিঙ্গল স্টেজ লিকুইড-ফুয়েলড মিসাইল। এর ওয়ারহেড বহনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৫০০ কিলোগ্রাম। ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এর প্রথম পরীক্ষা হয়। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এতে নানারকম সংশোধন আনা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সেনাবাহিনীতেও ব্যবহৃত হয়।

২০১০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই মিসাইলের পরীক্ষা ব্যর্থ হলেও ২০১০ সালের ২২ ডিসেম্বরের দুটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ সফল হয়।

গত শনিবার রাতের অন্ধকারে ছুটে যায় ভারতের মিসাইল অগ্নি-২। ২০ মিটার লম্বা এই ব্যালিস্টিক মিসাইল বহন করতে পারে ১০০০ কেজি পে-লোড। ২০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করতে পারে এই মিসাইল।

১৬ নভেম্বর, প্রথমবার নাইট ট্রায়াল হক এই মিসাইলের। অর্থাৎ রাতের অন্ধকারে ছোটে মিসাইলটি। ওডিশার ড. আব্দুল কালাম আইল্যান্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ওই মিসাইল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এই মারক মিসাইলের পরীক্ষণ প্রথমবার হল।

এই মিসাইলের মারক ক্ষমতা ২০০০ কিমি থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ কিমি পর্যন্ত করা যেতে পারে। অগ্নি ২ মিসাইল নিউক্লিয়ার হাতিয়ার নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ ভাবে সক্ষম। ভারত এর আগে এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অগ্নি ১ ব্যালাস্টিক মিসাইলের পরীক্ষণ করেছিল। ভারতীয় সেনা সামরিক সেনা কম্যান্ড বালাসোরের আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে ইন্ট্রিগ্রেড টেস্ট রেঞ্জ লঞ্চ প্যাড ৪ থেকে ৭০০ কিমি দূর পর্যন্ত মারক ক্ষমতা সম্পন্ন অগ্নি ১ মিসাইলের সফল পরীক্ষণ করেছিল।