স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে পৃথিবী তথা নিজেদের দেশকে সচেতন করতে সব দেশকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের মঞ্চে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সব দেশের রাষ্ট্রনেতারাই দূষণের বিরুদ্ধে এবং পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পক্ষেই কথা বলেছেন।

পরিবেশ সম্পর্কে এখনও মানুষ সচেতন নয় বলে প্রতিদিনই আমাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কোনও না কোনও জীবজন্তু, আবার হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাকৃতিক নদীগুলি। এইভাবে আর একটিও নদী যাতে হারিয়ে না যায় বা শুকিয়ে না যায়, নদীর নাব্যতা যাতে বজায় থাকে সেই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পথে নামল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মানুষ। পরিবেশ এবং নদী রক্ষায় তাঁদের এই আন্দোলনে সামিল হয়ে স্থানীয় মানুষকে উৎসাহ যোগাচ্ছেন খোদ দেশের ওয়াটার ম্যান রাজেন্দ্র সিং।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের মোহনপুরায় আত্রেয়ী নদীর উপর রাবার বাঁধ দিয়েছে বাংলাদেশ। যারফলে এপারে দক্ষিণ দিনাজপুরে নাব্যতা হারিয়েছে আত্রেয়ী নদী। ইতিমধ্যে এই নদী বাঁচাতে এলাকার সাংসদ থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে এই ব্যাপারে সবর হতে দেখা গিয়েছে।

এবার এই আত্রেয়ী বাঁচাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে পা মেলালেন দেশের ওয়াটার ম্যান খোদ রাজেন্দ্র সিং। জানা গিয়েছে, রবিবার বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ ডঃ রাজেন্দ্র সিং বাংলাদেশ সীমান্তের সমজিয়া এলাকায় আত্রেয়ী নদী পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশের মোহনপুরায় আত্রেয়ী নদীর উপর দেওয়া বাঁধকে আইন বিরুদ্ধ বলে জানান ওয়াটার ম্যান ।

এই বিষয়ে তিনি আরও জানান, যে কোনও নদীতে বাঁধ দেওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন। সেই নিয়ম মেনে বাঁধ দেওয়ার কথা বললেও বাংলাদেশের আত্রেয়ী নদীর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি বাংলাদেশের সরকার বাঁধ দেওয়া নিয়ে এই বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোন প্রকার আলোচনাও করেননি বলে রাজেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরেই এলাকার বাসিন্দারা বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুরের যে সমস্ত মৎস্যজীবিরা রয়েছেন তারা লক্ষ্য করেন, আত্রেয়ী নদীর নাব্যতা আশ্চর্যজনক ভাবে কমে গিয়েছে। এর কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জেলার নদী প্রেমীরা দেখতে পান, বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার মোহনপুরা এলাকায় মাঝবরাবর বাংলাদেশের সরকার আত্রেয়ী নদীতে বাঁধ দিয়েছে। যার ফলে এই দেশের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত আএেয়ীতে যেমন জল কমে গিয়েছে অনেক তেমনি সেচের কাজেও পড়ছে জলের ঘাটতি।

পাশাপাশি নদীতে জল বেশি না থাকায় মাছ যাচ্ছে মরে যারফলে স্থানীয় মৎস্যজীবিরা পড়েছেন বিপাকে। নদীতে মাছ না থাকায় সংসার চালাতে মৎস্যজীবির পেশা ছেঁড়ে তারা এখন ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন একপ্রকার।