ওশাকা: শুল্ক যুদ্ধের আঁচ পড়ল জি-২০ সম্মেলনেও৷ মার্কিন পণ্যের উপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপানোয় বেজায় খাপ্পা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প৷ মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধেয়ে এসেছে কড়া কথা৷ মার্কিন পণ্যে ভারতের চড়া আমদানি শুল্ক চাপানো কখনোই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে জানিয়েছেন হোয়াই হাউসের বাসিন্দা৷

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে সক্রিয় হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। যে সব দেশের সঙ্গে তাদের অতিরিক্ত মাত্রায় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরের ৫ জুন ভারতের উপর থেকে ‘জেনারেইলাজড ট্রেডিং প্রেফারেন্সেস’-এর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন।

স্বাভাবিক ভাবেই সেই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি। কারণ, ওই সুবিধার আওতায় ৫৬০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য কোনও শুল্ক ছাড়াই রফতানি করতে পারত ভারত। যা হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষুব্ধ মোদী সরকার। পালটা হিসাবে, ২৮টি মার্কিন পণ্যের উপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফলস্বরূপ ভারতের তালিকায় থাকা পণ্যগুলি এদেশে পাঠাতে আগের থেকে বেশি শুল্ক দিতে হবে মার্কিন ব্যবসায়ীদের৷

বিষয়টি নিয়ে আগেও তাদের বিরক্তির কথা জানিয়েছিল আমেরিকা৷ বৃহস্পতিবার জাপানে প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,‘‘ এই সম্মেলনের ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আমার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে৷ সেখানে ভারতেই এই চড়া শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে কথা হবে৷ এই হারে শুল্ক বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যায় না৷ বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত৷’’

ভারত ও চীন উভয় দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তীক্ত অবস্থায় রয়েছে৷ সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়৷ সেখানেও এই বিষয়টি আলোচনা হয় বলে জানা যায়৷

এই বৈঠক বেশ গুরুত্ববাহী ছিল৷ স্বাভাবিকভাবেই তা ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা৷ তারই জের ট্রাম্পের এদিনের মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে৷