নয়াদিল্লি: সবথেকে কম খরচে মঙ্গল অভিযান করে রেকর্ড করেছিল ভারত তথা মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। এবার দ্বিতীয়বার চাঁদের অভিযানের ক্ষেত্রেও সেই নজির বজায় রাখল সংস্থা।

হলিউডের ছবির থেকেও অনেক কম খরচে চাঁদে পাড়ি দিচ্ছে ভারত। আর ভারতের এই মহাকাশ অভিযানের বাজেট নিয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখিয়েছে বিদেশি জার্নালগুলি। সেখানে বলা হয়েছে সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার এন্ডগেম’-এর অর্ধেক বাজেটেই সম্পন্ন হচ্ছে ভারতের চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানে ভারত আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা করে নিতে চলেছে।

অ্যাপোলো-২ অভিযানের ঠিক ৫০ বছর পর দ্বিতীয়বার চাঁদে যান পাঠাচ্ছে ভারত। চাঁদের দক্ষিণে মেরু, যেখানে অন্ধকারে জমে আছে বরফ- সেই অংশেই নামনে ভারতের মহাকাশযান। চাঁদের এই অংশে এখনও পর্যন্ত একমাত্র চিন পৌঁছতে পেরেছিল তাদের Chang’e-4 স্পেসক্রাফট নিয়ে।

রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘স্পুটনিক’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ভারতের খরচ হচ্ছে ১২৪ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রয়েছে রকেট লঞ্চ করার খরচ বাবদ ৩১ মিলিয়ন ডলার ও স্যাটেলাইটের খরচ ৯৩ মিলিয়ন ডলার। আর ‘অ্যাভেঞ্জার এন্ডগেম’ তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৩৫৬ মিলিয় ডলার।

১৫ জুলাই, সোমবার শ্রীহরিকোটা থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে চন্দ্রায়ন-২। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ভারতের এই অভিযান আসলে এই দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা পৌঁছে দেবে গোটা বিশ্বের কাছে।

এর আগে ভারতের মঙ্গল অভিযানের সময় খরচ হয়েছিল হলিউডের ছবি ‘গ্র্যাভিটি’র থেকেও কম। আমেরিকা অ্যাপোলো-২ পাঠাতে খরচ করেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ভারতের খরচ তার থেকেও অনেক কম।

চন্দ্রায়ন-২- এর তিনটি মডিউল রয়েছে- অরবিটার, ল্যান্ডার ও রোভার। ভিতরে থাকবে রোভার। অরবিটার, ল্যান্ডার থাকবে একসঙ্গে। ল্যান্ডারটি চাঁদের মাটিতে অবতরণের পর খুলে যাবে দরজা। তখন ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার।

রোভারটি আসলে একটি গাড়ি। যা পৃথিবী থেকে রিমোট কন্ট্রোলে চালানো যায়। ওই গাড়ি চাঁদের মাটিতে চালিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন বিজ্ঞানীরা। ল্যান্ডারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিক্রম’। রোভারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজ্ঞান’।

গত কয়েক বছরে মহাকাশ গবেষণায় নজির তৈরি করেছে ভারত। চন্দ্রযান – ১-এর সফল অভিযানের পর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে প্রথম চেষ্টায় মঙ্গলের কক্ষে যান পাঠায় ভারত।