ইসলামাবাদ: দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অযোধ্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত। আর তা নিয়ে মাথাব্যাথার শেষ নেই পাকিস্তানের। সকাল থেকেই ট্যুইট করে চলেছেন পাক সেনার মুখপাত্র আসিফ গফুর। সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁর মোটেই পছন্দ হয়নি। ভারতে যখন ধর্ম নির্বিশেষ সবাই এই রায় মেনে নিয়েছেন, তখন পাকিস্তানিদের এই মন্তব্য নেহাতই হাস্যকর।

এদিন প্রথমে একটি ট্যুইট করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ‘বাবরি মসজিদের রায়ে চরমপন্থী ভারতের কুৎসিত মুখ আরও একবার বিশ্বের সামনে এল।’ শনিবারই কর্তারপুর করিডরের উদ্বোধন করা হয়েছে। সেই উদাহরণ টেনে আসিফ গফুর বলেন, ‘পাকিস্তান অন্য ধর্মকে সম্মান জানাতে কর্তারপুর করিডর খুলে দিচ্ছে।’

এরপর আরও একটি ট্যুইট করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারতের মুসলিমরা নাকি আফশোস করছেন। মহম্মদ আলি জিন্নার দেখানো পথেই নাকি তাঁদের চলা উচিৎ ছিল। লিখেছেন, ‘আজ ভারতের সংখ্যালঘুরা বুঝতে পারবেন যে হিন্দুত্ব নিয়ে আমাদের মহান নেতা মহম্মদ আলি জিন্নার দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে সঠিক ছিল। আজ তারা ভারতের অংশ হওয়ার জন্য আফশোস করছে।

বিভিন্ন সময় ভারত-বিরোধী কড়া মন্তব্য করার অভ্যাস তাঁর অনেকদিনের। যে কোনও ইস্যুতেই ট্যুইট করতে দেখা যায় তাঁকে। অযোধ্যা মামলাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এদিনের রায়ে বলা হয়েছে, অযোধ্যায় বিতর্কিত জমি পাবে রাম মন্দির পক্ষ। অর্থাৎ যে জমিতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল সেখানেই হবে রাম মন্দির। ২.৭৭ একরের সেই বিতর্কিত জমি হিন্দুদের দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে এই রায়ে। বলা হয়েছে বাবরি মসজিদ কোনও ফাঁকা জমিতে তৈরি হয়নি। আগে কোনও নির্মাণ ছিল ওই জমিতে। তবে ঠিক কি ছিল, সেটা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে জানাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

কিন্তু তৈরি হবে মসজিদও। বিতর্কিত জমিতে নয়। অন্য জমিতে মসজিদ তৈরি করা হবে। সেই জমি কোথায়, তা জানানো হয়নি তবে তাদের জন্য ৫ একর অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে নির্মোহী আখড়া সেবায়েত নয়। তাদের ট্রাস্টের সদস্য করার কথা বলা হয়েছে।

এদিন রায় ঘোষণার পর, ট্যুইট করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় কারও হার বা জিত নয়। রাম ভক্তি হোক বা রহিম ভক্তি, আমাদের দেশভক্তি-র উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। সব জায়গায় যাতে শান্তি বজায় থাকে, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ১৩০ কোটি ভারতবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।