নয়াদিল্লি: ভারতের অর্থনীতি যেভাবে চিনের সঙ্গে একেবারে গভীরে গিয়ে জড়িয়ে রয়েছে তাতে সাম্প্রতিক দুই দেশের মধ্যেকার রাজনৈতিক উত্তেজনায় বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।সীমান্ত উত্তেজনা জেরে দুই দেশের সেনার মৃত্যু হয়েছে। আর এর পাশাপাশি ভারতে আওয়াজ উঠেছে সব রকম চিনা পণ্য বয়কট করার।

এই সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদী সরকার ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। চিন থেকে কেনা পণ্য‌ ভারতের বন্দর থেকে বের হতে দেরি হচ্ছে। কতৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছে চিনা পণ্যের উপর আরো বেশি করে শুল্ক চাপাতে এবং জাহাজ থেকে নামার আগে তার গুণগতমান যাচাই করে নিতে।

দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্যিক সংযোগ এতটাই দৃঢ় যে চিনের উপর থেকে ভারতের নির্ভরতা কমানোটা মুখে বললেও বাস্তবে নেহাত সহজ কাজ নয়। লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হর্ষ পন্থের বক্তব্য, চিনের থেকে পণ্য আমদানী বন্ধ করা বাস্তবে অত সহজ কাজ নয়। এমন পদক্ষেপ আত্মঘাতীর শামিল। চিন থেকে ভারতকে কিনতে হয়‌ নানা ধরনের পণ্য।

যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স থেকে ওষুধের কাঁচামাল ও বিভিন্ন শিল্পজাত মেশিন সামগ্রী। ২০১৯ সালে যার জন্য চিন থেকে কেনা পণ্যের বিল ৭০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে দেখা যায় দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ঘাটতি প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে মোদী চাইছেন স্বনির্ভর হয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং সামগ্রিকভাবে আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে।

এদিকে আবার ভারত চাইছে তার বার্ষিক রপ্তানির পরিমাণ ২০২৫ সালের মধ্যে তিনগুণ করে এক ট্রিলিয়ন ডলার করতে। এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই আবার নির্ভর করছে ভারতের সঙ্গে চিনের বাণিজ্য। ভারতের রপ্তানি করা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে চিনের একটা ভূমিকা রয়েছে কারণ শীর্ষে থাকা তিনটি দেশের অন্যতম হলো চিন।

গতবছর ভারতের রপ্তানি ৫.৬ শতাংশ জাহাজে উঠেছিল চিনের জন্য। মূলত রপ্তানি হয়- রত্ন এবং অলংকার, কৃষিজাত পণ্য, বস্ত্র এবং পেট্রোকেমিক্যালস। এইসব পণ্য পাঠাতে দেরি করলে ডলার আয় ধাক্কা খাবে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের বিবিএস গ্রুপের অর্থনীতিবীদ রাধিকা রাও। শুধু বাণিজ্য বলে নয়।

লগ্নির ক্ষেত্রে দু’দেশের একটা সম্পর্ক রয়েছে। চিনের ব্যবসায়ীরা এদেশে এমন সব ক্ষেত্রে লগ্নি করেছে যা ভারতের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব রয়েছে। কারণ সেগুলি হল ডেলিভারি এবং রাইড হেলিং অ্যাপস, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল পেমেন্ট ইত্যাদি।

আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড এবং টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেড এদেশের স্টার্টআপ সংস্থাকে সহায়তা করছে অর্থ দিয়ে। তাছাড়া দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ২০০০ সাল থেকে চীনে ভারতীয় ভ্রমণকারী সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে ২০১৮ সালে ৯০,০০০ হয়েছে। চিনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস এমনটাই জানাচ্ছেন। অন্যদিকে ভারতের পর্যটন মন্ত্রক জানাচ্ছে, ওই বছর ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন ৩ লক্ষ চিনের মানুষ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ