নয়াদিল্লি: ভারতের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ ২০২০-২১ সালে বেড়ে দাঁড়াতে পারে জিডিপির ৬.২ শতাংশ যেখানে সরকার ধরেছিল ৩.৫ শতাংশ। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভারতের অর্থনীতির যা অবস্থা তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা মনে করছে ফিচ সলিউশনস। লকডাউনের প্রভাবে যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ধাক্কা খেয়েছে এবং তার জেরে রীতিমতো চাপে আয়ের পথ । ফলে খরচ সামলাতে সরকার বাধ্য হবে আরও ঋণ নেওয়ার দিকে এবং অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উচ্চহারে ডিভিডেন্ড নিতে।

ফিচ সলিউশনস জানিয়েছে, তারা তাদের ভবিষ্যৎ বাণী পর্যালোচনা করে দেখছে অর্থবর্ষ ২১এ কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াবে‌ জিডিপির ৬.২ শতাংশ যেখানে আগে ধরা হয়েছিল জিডিপির ৩.৮ শতাংশ,। যেটা অবশ্য সরকারের ধরা হিসেব ৩.৫ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। নতুন করে পর্যালোচনা করার পর ভবিষ্যৎ বাণী করা হচ্ছে তার পিছনে কারণ হল করোনা ভাইরাসের প্রকটে তলানিতে অর্থনৈতিক কাজকর্ম এবং উচ্চহারে খরচ এই করোনাভাইরাস মোকাবিলার নিমিত্তে।

এই প্রসঙ্গে ফিচ সলিউশনস মনে করছে, আয় এক শতাংশ কমে আসবে যেখানে গত বছর ১১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। পাশাপাশি এই সমীক্ষক এজেন্সি পুনর্মূল্যায়ন করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে জিডিপি বৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ যেখানে আগে ধরা হয়েছিল ৫.৪ শতাংশ। এটা দুর্বল বৃদ্ধির প্রতিফলন বলেই জানাচ্ছে।

২০অর্থবর্ষে ধরা হয়েছিল ৪.৯ শতাংশ। অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছে কারণ একদিকে দেশের অভ্যন্তরে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে অন্যদিকে বিশ্ব বাজারে চাহিদা কমে গিয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে ২৫ মার্চ লক ডাউন ঘোষণা করায় বহু মানুষই এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। যার ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় খাদ্য যোগাড় করে রাখতে পারেনি। ‌

আবার অনেকেই বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফিরতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছে। এর ফলে এই লকডাউনেও বহু মানুষের চলাচলের ফলে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আয় কম হওয়া সত্ত্বেও খরচের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ২২.২ শতাংশ হতে পারে। করোনা মহামারীর আকার ধারণ করলে বাজেটে যাই ধরা হোক না কেন মানবিক কারণে কেন্দ্রীয় সরকারকে‌ তার থেকে বেশি খরচ করতে হবেই ।